করতোয়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জোরপূর্বক কৃষকের জমি দখল করে নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। 
 
স্থানীয় গ্রামবাসী বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না। উল্টো বালু উত্তোলনকারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীদের জিম্মি করে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।
 
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব মহেশপুর মৌজা। মহেশপুর গ্রামের পাশে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। কোন প্রকার ইজারা ছাড়া নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। মহেশপুর গ্রামের কৃষকদের জমি জোড় করে দখল করে সেখানে করতোয়া নদী থেকে বালু তুলে স্টক করে বিক্রি করছেন শাহজাদপুর থানার গাড়াদহ গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা সেলিম রেজা ও জহুরুল ইসলাম। 
 
অভিযোগে বলা হয়, তারা গত বছর হতে দুজন মিলে করতোয়া নদীর তারাবাড়িয়া নামক স্থানে বালু মহাল ইজারা নেয়। কিন্তু সেই মহাল ছেড়ে অবৈধভাবে করতোয়া নদীর ২৪১ নং দাগের ভূমি থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এতে ওই এলাকার বিভিন্ন কৃষি জমির ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা নদী থেকে অর্ধ কিলোমিটার দুরে লোহার পাইপ দিয়ে কৃষকদের আবাদি জমিতে বালু ফেলছে।
IMG0
 
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী থেকে বালু উত্তোলন করে লোহার পাইপ দিয়ে মহেশপুর গ্রামের মসজিদের পাশে কৃষকদের রোপা আমন চাষের জমিতে ফেলা হচ্ছে। মহেশপুর গ্রামের কৃষক ফরিদুল অভিযোগ করেন তার ২০ শতক, সেরাজুল ইসলামের ৩৯ শতক, রফিকুল ইসলামের ১৬ শতক, ইমারত আলীর ২০ শতক, শামছুল আলমের ৩ বিঘা, ওসমান গণির ৪০ শতক, আলতাফ হোসেনের ৩৫ শতক, ইমান আলীর ২ বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বালু মজুদ করেছে উত্তোলনকারীরা। এসব কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। তাদের জমিতে বালু ফেলতে বাঁধা দেওয়ায় বালু উত্তোলনকারীরা লোকজন নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ তাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানালেও কোন ব্যবস্থা মেলেনি। 
 
এ বিষয়ে সেখানে বালু উত্তোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোন কথা বলতে চাইনি। মহেশপুর গ্রামের আইয়ুব আলী, রফিকুল ইসলাম, দুলাল সরকার, শামছুল প্রামানিক, ফরিদ প্রামানিক, গোলাম প্রামানিক অভিযোগ করে বলেন, গত বছর থেকে আমাদের গ্রামের নদী থেকে সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছে উল্লেখিতরা। 
 
বিষয়টি নিয়ে পুরো গ্রামের মানুষ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। 
 
বালু উত্তোলনের বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে। আগামীকালই সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ