সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না একটি সেতু। সড়ক নির্মাণ না করেই উপজেলার মাঠিয়ান হাওরে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ করে সরকারের প্রায় ৩১ লাখ টাকা গচ্চা গিয়েছে বলে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে গাজীপুর গ্রাম থেকে জামালগড় গ্রামের পাশের তাহিরপুর-বাদাঘাট এলজিইডি সড়ক পর্যন্ত মাটিয়ান হাওরের সারা বছরের মধ্যে ৬ মাস পানির নিচে ডুবে থাকা একটি খালে সেতু নির্মাণ করা হয়। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের মে মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়।
স্থানীয়রা জানায়, গাজীপুর গ্রাম থেকে তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের দূরত্ব দুই কিলোমিটার। এ দুই কিলোমিটার ডুবন্ত সড়ক চলাচল উপযোগী করে নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সেতুটি তাদের কোনো কাজে আসবে না। আগে সড়ক নির্মাণ না করে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি কেন নির্মাণ করা হলো তা কারো বোধগম্য হচ্ছে না।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, গাজীপুর গ্রামের সঙ্গে সড়ক সংযোগ না থাকায় সেতুটি মানুষের কোনো উপকারে লাগছে না। গ্রামবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সড়কটি নির্মাণ হলে ওই সেতুটি গ্রামবাসীর কাজে লাগবে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সুব্রত দাস বলেন, সড়ক না থাকায় ব্রিজটি গূরুত্বহীন মনে হচ্ছে। সড়ক তৈরি করা হলে অবশ্যই এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইত্তেফাক/নূহু