খাশোগি হত্যাকাণ্ড

সঠিক সময়ে সব তথ্য প্রকাশ করা হবে: তুর্কি প্রেসিডেন্ট

সৌদি সাংবাদিক ও লেখক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি সৌদি আরব। সত্য প্রকাশ করা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে রয়েছে দেশটি। এরই মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগান বলেছেন, খাশোগি হত্যার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। সঠিক সময়ে সব প্রকাশ করা হবে। খাশোগির মরদেহ কোথায় ফেলা হয়েছে, কে হত্যার নির্দেশ দিয়ে তা সৌদি আরবকে প্রকাশ করতে হবে। এদিকে খাশোগিকে হত্যার রেকর্ডিং শোনার পর এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন সিআইএ প্রধান। বর্তমান অবস্থায় জার্মানি সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজ পরিবারকে বিশ্বাস করা উচিত। খবর-আল জাজিরা।
 
গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে নিখোঁজ হন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি। গত ২০ অক্টোবর সৌদি আরব প্রথমবারের মতো স্বীকার করে যে কনস্যুলেট ভবনে মৃত্যু হয়েছে খাশোগির। পরে জানায়, তিনি খুন হয়েছেন। তবে সৌদি আরবের এই ব্যাখ্যায় খুশি হতে পারেনি আন্তর্জাতিক বিশ্ব। কারণ খাশোগির মরদেহের কী হয়েছে এবং কে তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে সে ব্যাপারে কোনো উত্তর দিতে পারেনি সৌদি আরব। তুরস্কের তদন্তকারীরা বলছেন, খাশোগির মরদেহের সন্ধানে তত্পরতা জোরদার করা হয়েছে। তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হতে পারে এবং একের অধিক জায়গায় তা ফেলা হতে পারে। তবে মরদেহ তুরস্কের বাইরে নেওয়া হয়নি।
 
গতকাল শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, খাশোগির হত্যাকারী সৌদিতে আটক ১৮ জনের মধ্যে থাকতে পারে। আমরা তাদের হস্তান্তর করতে আহ্বান জানিয়েছি। তিনি জানান, সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল রবিবার তুরস্কে আসছেন। তিনি তুরস্কের প্রধান আইন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন।
 
এদিকে বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। ফোনালাপে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে তাদের কথা হয়। এরপর গতকাল ক্রেমলিন বলেছে, খাশোগি হত্যায় সৌদি রাজ পরিবার যে জড়িত নেই সেটা বিশ্বাস করে রাশিয়া। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে পশ্চিমাদের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে তার সুযোগ নিতে পারে রাশিয়া।
 
তবে বাদশাহের সঙ্গে ফোনালাপে খাশোগিকে হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলার আঙ্গেলা মার্কেল। তিনি বলেন, অবশ্যই এ ঘটনার স্পস্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এ ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অবস্থানের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী পিটার আল্টমাইয়ের।
 
এদিকে খাশোগির বড় ছেলে সপরিবারে সৌদি আরব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। তার পিতা রাজ পরিবারের সমালোচক হওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই তার পাসপোর্ট জব্দ করে রেখেছিল সৌদি সরকার। অন্যদিকে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে ‘খাশোগি ফেন্ডস এসোসিয়েশন’। খাশোগির সমর্থকরা ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের কাইরে বিক্ষোভ করে। এছাড়া বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডন, প্যারিস ও ওয়াশিংটন ডিসিতেও।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি