বিশ্বের প্রায় সব কলা উত্পাদনকারী দেশেই পানামা রোগের বিস্তার দেখা যায়। এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্য আমেরিকার অনেক দেশে পানামা রোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সাগর কলা গাছে প্রায়ই এই রোগ দেখা যায়।
‘ফোসারিয়াম অক্সিপোরাম’ নামের এক ধরনের ছত্রাক কলার পানামা রোগের জন্য দায়ী। ১৯৫০ এর দিকে পানামা রোগের কারণে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে ‘গ্রোস মিচেল’ বা ‘বিগ মাইক’ নামের এক প্রজাতির কলা গাছ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই রোগ নির্মূল করার কোনো উপায় খুঁজে বের করতে না পারলে হয়ত একদিন হারিয়ে যাবে সুস্বাদু ফল কলা।
যদি এই রোগ দক্ষিণ আমেরিকার ‘ক্যাভেনডিস কলা’য় দেখা দেয় তাহলে তা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ক্যাভেনডিস কলা খাওয়া হয় যুক্তরাজ্যে। তবে একই সঙ্গে আশার বাণীও শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কলার পানামা রোগ থেকে কলার বিভিন্ন জাতকে রক্ষার জন্য তারা বিশেষ এক প্রজাতির কলা গাছ খুঁজে পেয়েছেন। আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল মাদাগাস্কারের জঙ্গলে প্রাপ্ত এক ধরনের জংলি কলার প্রজাতিকে কাজে লাগাতে চান তারা। তবে আশঙ্কার কথা, এই প্রজাতির মাত্র পাঁচটি গাছই বর্তমানে জীবিত রয়েছে। মাদাগাস্কারের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ার কারণে এই কলা গাছগুলো অ্যান্টি প্যারেরি হিসেবে টিকে আছে যা কিনা এই কলা গাছকে খরা এবং বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধী করেছে। কিউ’স রয়েল বোটানি গার্ডেনের বিজ্ঞানী রিচার্ড অ্যালেন বলেন, এই কলা গাছগুলোতে কখনোই পানামা রোগের আশঙ্কা নেই। এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই প্রজাতির কলা গাছের বিশেষ জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
তিনি বলেন, এই কলা গাছগুলোর বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যান্য জায়গার কলা গাছের পানামা রোগ সারিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু তার আগে এই পাঁচটিকে টিকিয়ে রাখাটাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। গাছগুলো জঙ্গলের এমন জায়গায় রয়েছে যা কিনা যে কোনো সময় দাবানল কিংবা বন উজাড়করণ প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে। এ কারণেই এই কলা গাছগুলোকে এখন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় রাখা হয়েছে। কিউ মাদাগাস্কারের কনজারভেশন সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. হেলেন র্যালিমানানার মতে, এই গাছগুলোকে আইইউসিএনের লাল তালিকায় রাখাটা গাছগুলো রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ জাতের জিন উদ্ভাবনে ভবিষ্যতে এই গাছগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখবে।-এক্সপ্রেস
ইত্তেফাক/আরকেজি