বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মানবপাচার অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাঁটা তারের বেড়া টপকিয়ে দালাল চক্র মানবপাচার করে থাকে।
মানবপাচার বন্ধ করতে সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দালাল চক্র ভাল কাজ আর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মানবপাচার করে যাচ্ছে। পাচারকারীরা (দালাল চক্র) বেনাপোলের পার্শ্ববর্তী পুটখালী এবং দৌলতপুর সীমান্তকে বেছে নিয়েছে নিরাপদ রুট হিসাবে। কারণ এ দুই সীমান্ত দিয়ে নদী পথে ভারতে যেতে সময় লাগে মাত্র ৪ থেকে ৫ মিনিট।
আগে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে দালাল চক্র গলাকাটা পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারতে মানুষ পাচার করতো। এখন বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ফিংগার প্রিন্ট পদ্ধতি চালু হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দালাল চক্র এখন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পচার করছে। পাচার হওয়া নারীরা মোটা অংকের টাকায় বিক্রি হয় বিভিন্ন দেশে।
বেনাপোলসহ শার্শা সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের দুটি ইউনিট কাজ করে। তারা চলতি বছরে এ সীমান্ত থেকে শিশুসহ ৮৪৮ জন নারী-পুরুষকে আটক করেছে। তার মধ্যে দালাল রয়েছে ২ জন।
নারায়ণগঞ্জের মানব পাচারকারী সুভাষ সরকার জানান, ‘ঢাকা থেকে একজন নারী বা পুরুষকে আমরা কলকাতা পর্যন্ত পৌছাতে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ নিয়ে থাকি। বেনাপোল হয়ে ভারতের বনগাঁ পর্যন্ত আমাদের খরচ হয় ৪ হাজার ৩০০ টাকা। তার পর ওপারের মহাজন তার নিজ দায়িত্বে এদের পৌঁছে দেয় তার গন্তব্য স্থানে। পৌঁছানোর পর যার কাছে এদের হস্তান্তর করবে সেই ব্যক্তি টাকা দিয়ে কিনে নেয় এ সব নারী-পুরুষ কিংবা শিশুকে।’
পাচারের সময় আটক হওয়া নারী-পুরুষ জানায়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভাল কাজ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করা হয়। পরে আমাদের বিক্রি করে দেয়া হয়।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল হক জানান, চলতি বছর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় ১২৪ জন পুরুষ, ৫৫ জন নারী, ২০ জন শিশু এবং দুই দালালকে আটক করা হয়েছে। সীমান্ত চৌকিগুলিতে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
IMG0
খুলনার ২১ বিজিবি বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ্ সরকার জানান, বেনাপোল, শার্শা সীমান্তে ৬টি ক্যাম্প রয়েছে আমাদের। ৬টি ক্যাম্পের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় ৬৪৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে ৩২৭জন পুরুষ, ২০৭ জন নারী এবং ১১৩ জন শিশু। আটককৃতদের বেনাপোল পোর্ট থানা এবং শার্শা থানায় সোপার্দ করা হয়েছে। তবে মানবপাচার বন্ধ করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশানের ওসি মো. আবুল বাশার জানান, এম আরপি (মেশিন রিডাবল পাসপোর্ট) চালু হওয়ার পর গলাকাটা পাসপোর্টে ভারতসহ অন্যান্য দেশে যাতয়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আর গলাকাটা পাসপোর্টে কাউকে দেশের বাইরে যেতে দেখা যায় না।
বেনাপোল পোর্ট থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত বেনাপোল পোর্ট থানায় মানবপাচারের অভিযোগে ৫৪টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোর কার্যক্রম চলছে।
ইত্তেফাক/ইউবি