দাবি পূরণ না হলে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট

সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি আর বাড়ছে না। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই সারাদেশে চলবে পরিবহন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। এ দিকে ধর্মঘটে চালক, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদে গতকাল মুখে কালো মবিল মেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।
 
জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বানে সারাদেশে পরিবহন শ্রমিকরা রবিবার সকাল থেকে টানা ৪৮ ঘন্টার কর্মবিরতি শুরু করে।
 
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ জানান, দাবি পূরণে  সরকারকে আগামী ২১ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করা না হলে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ফের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হবে।  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা কর্মবিরতি বর্ধিত না করায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পণ পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আলহাজ মুকবুল আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদে  আইনটি যেদিন  পাস হয় সেদিন শ্রমিক ফেডারেশন ও মালিক সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা (নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা) সংসদে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা সেদিন কোনো ধরনের প্রতিবাদ করেননি।  ফলে তাদের দাবি অযৌক্তিক।  তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আহ্বান জানান। অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একই আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রাক ডাইভারস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ মনির।
 
কর্মসূচির ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, আমরা আমাদের বাঁচা-মরার প্রশ্ন নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা সরকারকে তিন সপ্তাহ সময় দিচ্ছি।  এসময়ের মধ্যে কোনো আশ্বাস না পেলে আমরা ফের ৯৬ ঘন্টার ধর্মঘটে যাব।  দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
 
মুখে কালো মবিল মেখে ঢাবির শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
 
পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে চালক, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে তারা মুখে কালো মবিল মেখে ও হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করে অভিনব প্রতিবাদ জানান।  বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন পালিত হয়। এ সময় পরিবহন ধর্মঘটে নারী নির্যাতন, শিশুহত্যা (ধর্মঘটে আটকা পরে অ্যাম্বুলেন্সে এক শিশুর মৃত্যু হয়) এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির প্রতিবাদ জানানো হয়।
 
 পরিবহন শ্রমিকদের হাতে
 
লাঞ্ছিত চবি শিক্ষক
 
 ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা এমনই কথা ছিল? ক্যাম্পাসে আসতে সহায়তা করবেন পরিবহন শ্রমিকরা। কিন্তু সে কথা রাখেননি তারা। এদিকে ধর্মঘটেও পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু সেই ধর্মঘটের মধ্যেই লাঞ্ছিত হলেন চবি শিক্ষক। আর মারধরের শিকার হন শিক্ষকদের বহনকারী চবির এক বাসচালক। এ সময় শ্রমিকরা ওই বাসচালকের মোবাইল ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেন। দেশজুড়ে  ৪৮ ঘণ্টার চলমান কর্মরিবতির দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রামের বহাদ্দারহাট টার্মিনালে এই লাঞ্ছনা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার বাসচালকের নাম মোহাম্মদ দুলাল। এ সময় ওই বাসে থাকা শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে তাদেরও লাঞ্ছিত করেন শ্রমিকরা। বর্তমানে বাস চালক দুলাল চবি মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিত্সাধীন।
 
 ‘কর্মবিরতির নামে নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদ
 
সারাদেশে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিসহ হয়রানি করার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ করেছে সুনামগঞ্জের ‘যাত্রী সংহতি’ নামে একটি সংগঠন। গতকাল সোমবার জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করে এই প্রতিবাদ জানান তারা। তারা ‘নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের’ আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
 
কর্মবিরতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি
 
কর্মবিরতিকে অবৈধ ও শ্রম আইনবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ। একইসঙ্গে এই কর্মবিরতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল সোমবার  গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি  রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইনসুর আলী এ দাবি জানান।
 
ইত্তেফাক/নূহু