পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংসদকে জানিয়েছেন, ‘মেঘনা নদীর ভাঙ্গন থেকে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলাধীন লর্ডহার্ডিঞ্জ ও ধলিগৌরনগর বাজার রক্ষা প্রকল্প’-এর আওতায় ২.৭০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি করে স্থায়ী প্রটেকশনের কাজ দ্রুত শুরু হবে। গতকাল সোমবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে ভোলা-৩ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা জানান।
শাওনের প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও জানান, ভোলা জেলার লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলার যে সকল বেড়িবাঁধ হুমকির সম্মুখীন রয়েছে তার উচ্চতা বৃদ্ধিসহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলা সদর সংরক্ষণ প্রকল্প’-এর আওতায় ৬.৫০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের উচ্চতা +৬.০ মিলিমিটার (পি.ডব্লিউ.ডি) তে উন্নীত করে স্থায়ী প্রটেকশনের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ৪৪৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকাল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। সংশোধিত ব্যয় ৬০৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব সম্বলিত ১ম সংশোধনী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী সংসদকে জানান, নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ি উপজেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও অধিক ফসল উত্পাদনের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন প্রকল্প’ শীর্ষক ডিপিপি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সেনবাগ উপজেলার প্রায় ৬৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ‘বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় খাল, জলাশয় ও নদী পুনঃখনন (১ম পর্যায়)’ প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন নোয়াখালী জেলার সেনবাগ ও সোনাইমুড়ি উপজেলায় ২টি করে মোট ৪টি খাল পুনঃখননের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৩ এর আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য বেগম উম্মে রাজিয়া কাজলের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ এর আওতায় গোপালগঞ্জ জেলার পশ্চিম চরভাটপাড়া এলাকায় এক হাজার মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজের জন্য ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু