এসএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছিলেন, ফরম ফিলাপের নামে কিংবা নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অনৈতিকভাবে পাস করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করলে দুদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু তারপরও মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ২০১৯ সালের এসএসসির ফরম পূরণে বিভিন্ন স্কুলে অতিরিক্ত টাকা আদায় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা নিয়ে ফরম ফিলাপ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং যারা এ টাকা দিতে পারেননি তাদের এ সুযোগ দেওয়া হয়নি। উপজেলায় ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬টি মাদ্রাসা রয়েছে। বেশির ভাগ স্কুল সরকারের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।
কেবল এসএসসিতেই নয়, জেএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, জেএসসিতে মোট বিষয় হলো ১১টি। এর মধ্যে ৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এবং বাকি ৪টি পরীক্ষা স্ব স্ব স্কুলে হওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে কৃষি/গার্হস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও চারু ও কারু এই ৪ সাবজেক্ট পরীক্ষায় এ প্লাস দেওয়ার কথা বলে দ্বিতীয়বার সাবজেক্ট প্রতি ৫০ টাকা করে মোট ২০০ টাকা ফি আদায় করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
এসএসসি পরীক্ষায় ফরমপূরণের জন্য সাবজেক্ট প্রতি ৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে করে ১৩টি সাবজেক্টে কেন্দ্র ফিসহ প্রায় ১৭৯০ টাকা আসে। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে। শুধু তাই নয়, গত বছর যারা এসএসসি পরীক্ষায় এক থেকে ৪ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে সরকারি বিধি মোতাবেক তাদের এবারে ফরম ফিলাপের জন্য ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা করে। এছাড়া প্রতিটি স্কুলে আইসিটি ক্ষেত্রে শিক্ষক এবং কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে সরকারি তরফ থেকে। দেওয়া হয়েছে প্রজেক্টরও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এগুলো ব্যবহার করা হয় না। আইসিটি সাবজেক্টের কাজগুলো করিয়ে আনা হয় বাইরে থেকে। এতে করে সরকারি সম্পদ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে অর্থের অপচয়। আইসিটি সম্পর্কেও কোনো ধারণা নিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বোর্ডে যাতায়াত খরচ, পরীক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ খরচ, অন লাইনে ফরম ফিলাপ খরচ ও কোচিং ফি ইত্যাদি দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। কোচিং ফি করা হয়েছে বাধ্যতামূলক। কোচিং না করলেও ফি দিতেই হবে। অতিরিক্ত ক্লাসের কথা বলে টাকা নিলেও অতিরিক্ত ক্লাস হয় না বলে জানা গেছে।
সাহরাইল, তালেবপুর, বায়রা, জামির্ত্তা, গোলাইডাঙ্গা, জয়মন্টপ, চারিগ্রাম, নবগ্রাম, ধল্লা, ভূমদক্ষিণ, জামসা, রায়দক্ষিণ, নুর মহসিন ও সিংগাইর বালক বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ধরনের অনিয়ম সবচেয়ে বেশি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলেরই এক শিক্ষক জানিয়েছেন। তিনি জানান, টেষ্ট পরীক্ষাতে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছিল তাদের স্কুলে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পত্রিকায় ও টিভিতে সম্প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি প্রশাসন।
টাকা বেশি নেয়ার কথা স্বীকার করে সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এফ এম ফজলু জানান, আমাদের ফেলের সংখ্যা অনেক। ৫ থেকে ৬ বিষয়ে ফেল করেছে তাদের সবাইকে পরবর্তীতে পাম দেখিয়ে লেট ফি নিয়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সভাপতির সুপারিশে যে শিক্ষার্থী ৭ বিষয়ে ফেল করেছে তাকেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে একথা অস্বীকার করে সভাপতি আনোয়ারা খাতুন বলেন, সবাইকে নয়, তবে ১ থেকে ৩ নম্বর বাড়িয়ে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে ‘মেয়ে মানুষ’ বলে। এছাড়া অতিরিক্ত ক্লাস বা কোচিং এবং বকেয়া বেতনের বাইরে বেশি টাকা আমার জানা মতে নেয়া হয়নি। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন সিংগাইর হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমানসহ অন্যান্য কয়েকটি স্কুলের প্রধানগণও।