বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বাফার গুদামের ১৫৩ কোটি টাকার ৬ হাজার টন সরকারি সার আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক গুদাম কর্মকর্তা নবীরউদ্দিন খান এবং পরিবহন ঠিকাদার মো. রাশিদুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক বগুড়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে বুধবার আদমদীঘি থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন বগুড়ার সান্তাহার বাফার গুদামের সাবেক উপ-প্রধান প্রকৌশলী ও ইনচার্জ নবির উদ্দিন এবং পরিবহন ঠিকাদার মেসার্স রাজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আদমদীঘি উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রাজা।
সাবেক গুদাম কর্মকর্তা নবির উদ্দিনের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। আর পরিবহন ঠিকাদার শ্রমিক লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্দিরা গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।
দুদকের সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার বাফার গুদামে ৪ হাজার টন সার আত্মসাতের ঘটনায় একটি মামলা ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর আদমদীঘি থানায় করা হয়। তাতে আসামি করা হয়েছিল বাফার ইনচার্জ নবীর উদ্দিন খানকে। পরবর্তীতে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম তদন্ত করে দেখতে পান ৪ হাজার টন সার আত্মসাত নয়, আরো বেশি টন সার আত্মসাত করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখতে পায় ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বিদেশ থেকে আমদানি করা এবং বিসিআইসির নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত মোট ২ লাখ ৪২ হাজার ২৪৯ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন সার সান্তাহার বাফার গুদামে মজুদের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু অভিযুক্ত গুদাম কর্মকর্তা নবির উদ্দিন ও পরিবহন ঠিকাদার রাশেদুল ইসলাম রাজা পরস্পর যোগসাজসে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৬ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন সার হিসাবভুক্ত করে বাদ বাকী ৫২ হাজার ৩৪২ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন সার আত্মসাত করেন।
২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ২৪ জুনের মধ্যে ওই পরিমাণ সার আত্মসাত করা হয়। যার বাজার মূল্য ১৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৭৫২ টাকা।
মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯/৪২০/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদমদীঘি থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, দুদকের মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি