কালিয়ায় পুত্রবধূর ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে খুন হলেন শাশুড়ি

নড়াইলের কালিয়ায় পুত্রবধূর ইজ্জত বাঁচানোর চেষ্টার কারণে খুন হয়ে থাকতে পারে শাশুড়ি আঙ্গুরী বেগম (৫০) বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা নিহতের পুত্রবধূ নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তানজিলা বেগমের (২০) জ্ঞান ফেরার পর পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই সূত্র ধরেই পুলিশ খুনিদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে কালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ তানজিলার ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছে।
 
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে কালিয়া উপজেলার চাপুলিয়া গ্রামের সবুর খান তার স্ত্রী আঙ্গুরী বেগম ও পুত্রবধূ তানজিলাকে বাড়িতে রেখে বারইপাড়া বাজারে যান। সকাল ৯টার দিকে বাজার থেকে ফিরে তিনি প্রথমে পুত্রবধূ তানজিলাকে বসতঘরের বারান্দায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার কাছে ছুটে যান। পরক্ষণেই অন্য ঘরের মেঝেতে তার স্ত্রী আঙ্গুরী বেগমের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।
 
ঘটনাটি জানাজানি হলে খবর পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধারসহ অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকা তানজিলাকে চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
 
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তানজিলা জ্ঞান ফিরে পেলে পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছে, ওইদিন সকাল ৮টার দিকে কয়েকজন অপরিচিত লোক বাড়িতে গিয়ে তার শ্বশুর ও স্বামী বাড়িতে আছে কিনা জানতে চায়। বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ নেই বলে তাদেকে জানানোর পর আগন্তুকরা তাকে নলকুপ মেরামতের যন্ত্রপাতি দিতে বলে।
 
তানজিলা নলকুপ মেরামতের যন্ত্রপাতির ব্যাগ এগিয়ে দিতে গেলে আগন্তুকরা তাকে ও তার শাশুড়িকে ধরে বাড়ির একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। তানজিলাকে অন্য ঘরে নিয়ে হাত-পা বেধে ধর্ষণের চেষ্টাকালে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
 
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পুত্রবধূর ইজ্জত বাঁচানোর চেষ্টা করার কারণেই হয়ত শাশুড়ি নরপশুদের হাতে খুন হয়েছে বলে তারা প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছেন। ওই ঘটনায় অজ্ঞাত নামাদের আসামি করে নিহতের স্বামী সবুর খান বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই কালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
 
কালিয়া থানার ওসি শেখ শমশের আলী বলেছেন, গৃহবধূ আঙ্গুরী বেগম হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের পুত্রবধূ তানজিলার দেয়া জবানবন্দির সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। পুত্রবধূর ইজ্জত রক্ষা বা ধর্ষণে বাধা দেয়ার চেষ্টার কারণে তারা শাশুড়িকে খুন করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার তানজিলার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে। পুলিশ এখনো ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি