সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নওশাদ হাসান হিমু (২৭) নামে এক যুবক গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। হিমু বিরুলিয়া এলাকায় আব্দুল হক মোল্লার বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। নিহত হিমু বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার বাবরখানা গ্রামের সরদার আবুল হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, হিমু সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনার দিন উদ্ধার কর্মী হিসেবে কাজ করে এলাকায় ‘হিরু’ নামে পরিচিত ছিলেন। বন্ধু মহলে তিনি ‘হিমালয় হিমু’ নামে পরিচিত। রানা প্লাজা ধসের ষষ্ঠ বছর পূর্তির দিন হিমু আত্মহত্যা করলেন।
এদিকে হিমুর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দেখা যায়, বুধবার রাতে আত্মহত্যার আগে তিনি নিজের ফেসবুকে কয়েকটি পোস্ট দেন। তাতে লেখা ছিল ‘ছোটকাল থেকেই আগুন আমার অনেক পছন্দ, কারো মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশী শফিউদ্দিন মোল্লা জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরেই আমি দোকানে ছিলাম। রাত পৌনে ১০টার দিকে হঠাৎ দেখি আমার বাড়ির পাশে আগুন জ্বলছে। দৌড়ে এসে দেখি হিমুর শরীরে আগুন জ্বলছে। এ সময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বালু ও পানি দিয়ে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলি। কিন্তু এর আগে তার শরীর পুড়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এরপর হিমুর পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তার চাচা আশরাফ ও রানা ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে এসে লাশ সনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: নারী চিকিৎসককে যৌন হয়রানি, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নালিশ করেছিলেন চেয়ারম্যানের কাছে
ওই বাড়ির মালিক আব্দুল হক মোল্লা জানান, ছেলেটি কুকুর পছন্দ করতো এবং সারাদিন কুকুর নিয়ে থাকতো। তবে সে কিছুদিন যাবত মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিল।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী বলেন, পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে হিমু কারো সঙ্গে তেমন মিশতো না। এছাড়া তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গেও থাকতেন না। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এএফএম সায়েদ বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিজেই শারীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ইত্তেফাক/অনি