সেই অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ালেন শিবালয় থানার ওসি

দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর জেলার শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটের পুরাতন ট্রাক টার্মিনালের পরিত্যক্ত টিনের ঘরের বারান্দায় স্বজনদের ফেলে যাওয়া অসহায় প্রবীণ সেই নারীর পাশে দাঁড়ালেন শিবালয় থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন। তার তত্বাবধানে প্রবীণ ওই নারীকে সেবা যত্ন করছেন স্থানীয় জবেদা ও শারমিন। প্রতিদিন খোঁজ-খবর রাখছেন তিনি।
 
ইতিমধ্যে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে তাকে। ভালভাবে কথা বলতে পারেনা ওই নারী। তাকে দেখে সনাক্ত করে ঠিকানা বের করার জন্য স্থানীয় সকলকে অনুরোধ করেন তিনি।
 
বিগত ২৩ দিনেও সন্ধান মিলেনি আরিচা ঘাটে স্বজনদের ফেলে যাওয়া ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ ওই নারীর। কোথায় তার বাড়ি-ঘর, কে তার স্বজন, বলতে পারেনা সে। কিছু জিজ্ঞেস করলে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকেন তিনি। হাত দিয়ে ইশারা করে শুধু খেতে চান। হাটতে পারে না, চোখে ছানি পড়ায় দেখে কম, ভাল করে কথা বলতে পারে না। বিছানায় পায়খানা-প্রস্রাব করে ওই প্রবীণ নারী।
 
স্থানীয়দের কাছে বলেছে তার ছেলে তাকে এখানে ফেলে রেখে গেছে। যদি তাই হয় কে নেবে এর দায়ভার, কে করবে এর সেবাযত্ন। কত দিন থাকবে এভাবে?  ইতিমধ্যে শিবালয় থানার ওসি ওই প্রবীণকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
 
স্থানীয়রা জানান, গত ১০ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটের পুরাতন ট্রাক টার্মিনালের ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পাওয়া যায় প্রবীণ ওই নারীকে। এমতবাস্থায় স্থানীয় জবেদা বেগম নামের এক নারীর মায়া হলে তাকে ময়লা-আবর্জনা থেকে উদ্ধার করে গোসল করিয়ে কাপড় পড়িয়ে টার্মিনালের ঘরের বারান্দায় রেখে দেন।
 
নিহালপুর গ্রামের জবেদা বেগম জানান, কয়েকদিন আগে  টার্মিনালের একটি ঘরের বারান্দায় নিজে পায়খানা করে তার মধ্যেই শুয়ে থাকতে দেখা যায় প্রবীণ ওই নারীকে। এমতাবস্থায় তাকে গোছল করিয়ে কাপড়-চোপড় পড়িয়ে এখানে রাখা হয়।
 
শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরশাদ উল্লাহ বলেন, প্রবীণ এই নারীর এখন তেমন কোন সমস্যা নেই। যে টুক আছে সেটা বার্ধক্যজনিত সমস্যা। হাসপাতালে রাখলেও যা হবে, না রাখলেও তাই হবে। বাড়ি নিয়ে ঠিক মত খাওয়া-দাওয়া করালে ভাল হবে।
 
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক আমি ওই প্রবীণের কাছে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছি। তাকে ওখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো হয়েছে।আমাদের সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা করছি তাকে। আমার ডিআইজি স্যার, এসপি স্যার তাকে আর্থিক সহায়তা করেছে। মসজিদে বলার পর স্থানীয়রা তাকে আর্থিক সহায়তা করেছেন।
 
এছাড়া গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংক এশিয়ার অফিসার নাহিদ হোসেন এসে ওই প্রবীণকে দেখে আর্থিক সহায়তা করেন। সে আশ্বস্ত করেছেন ওই প্রবীণের স্বজনকে খুঁজে পেলে তারা চাকরির ব্যাবস্থা করে দিবেন। আমরা তার স্বজনদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি সকলকেই ওই প্রবীণের স্বজনদের ঠিকানা বের করার অনুরোধ করেন তিনি।
 
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকের ৫ এর পাতায় ‘হতভাগ্য বৃদ্ধের ঠাই মিললো ট্রাক টার্মিনালে’ এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ