জামালপুরে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৪ সদস্যের একটি দলকে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর র‌্যাব-১৪। রবিবার সকালে শেরপুর সদর উপজেলার কামারের চর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
 
গ্রেপ্তারকৃতরা হল- শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের চরভাবনা কান্দাপাড়া গ্রামের এসএম বেলায়েত হোসেনের ছেলে মনোয়ার হোসেন বুলবুল (১৬), একই এলাকার শেখ মাইনুদ্দিনের ছেলে সাইম আহমেদ মিলন (১৫), ইদ্রিস আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৩) ও খলিল মিয়ার ছেলে সোহাগ রানা (১৬)। তারা সবাই ছাত্র।
 
র‌্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জেএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র আদান-প্রদান চক্রের কার্যক্রম নজরে এলে জামালপুর র‌্যাবের ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান শেরপুর সদর উপজেলার কামারের চর বাজারে অভিযান চালান। এ সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে জামালপুর র‌্যাব অফিসে নিয়ে আসে।
 
র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আটক বুলবুল জানায়, ফেসবুকে নিজের খোলা ‘সিকিউরিটি এনাউন্সমেন্ট বাজটিম’ নামে তার একটি গ্রুপের মাধ্যমে ফেসবুকে ‘সিক্রেট এনথনি বাজ’ নামের গ্রুপের অ্যাডমিন মাহমুদ সজিবের ফেজবুক আইডি থেকে প্রশ্নপত্র বিষয়ে তার গোপন যোগাযোগ হয়। বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে টাকা লেদ-দেন হলে অতি সতর্কতার সাথে ‘টেলিগ্রাম’ নামের একটি অ্যাপসের ব্যবহার করে প্রশ্ন সংগ্রহ করে আসছিল। পরে তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র বিক্রি করে আসছিল।
 
বুলবুল আরো জানায়, গত বছর এসএসসি পরীক্ষার শেষের দিকে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অনেক টাকা রোজগার করেছে। গত বছর প্রশ্নপত্র হুবহু মিল থাকায় তাদের ভালো ব্যবসা হয়েছে। এবারও একই কায়দায় জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির পরিকল্পনা নেয় তারা। কিন্তু এবার প্রশ্ন হুবহু মিলা না পড়ায় নিজেরাই জেএসসির ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে ফেসবুকে আপলোড করে আকর্ষণ ধরিয়ে টাকা রোজগার শুরু করে। এবার সেই টাকা দিয়ে দামী একটি ল্যাপটপ কিনে ব্যবসা আরো বড় করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
 
এ বিষয়ে জামালপুরের র‌্যাব-১৪ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান জানান ‘আটক ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের ৪ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রি করে অবৈধ টাকা উপার্জনের পাশাপাশি বিভ্রান্ত ছড়িয়ে অভিভাবক ও কোমলমতী শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে আসছিল। এই চক্রের মূলহোতাদের আটক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ