গৌরনদীতে তিন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ

গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া, সরিকল ও খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের তিনটি স্থানে শুক্রবার গভীর রাতে ১৫/২০টি বোমার বিস্ফোরণ ও সড়ক বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় তিন আ.লীগ নেতা বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১শ ৩৬ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অসংখ্য অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। 
 
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার গভীর রাতে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের লাল পোল, সরিকল ইউনিয়নের হোসনাবাদ স্টিমারঘাট চকিদার বাড়ির সন্নিকটে ব্রিজের কাছে ও  খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মেদাকুল গ্রামের দ্বীনবন্ধু সাহার বাড়ির কাছে দীঘিরপাড় নামক এলাকায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় কে বা কারা। এ সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তিনটি রাস্তা কেটে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 
 
এ ঘটনায় খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মতলেব তালুকদার বাদী হয়ে ৫৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা  অসংখ্য নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। 
 
মামলার উল্লেখ্যযোগ্য আসামিরা হলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকন সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয়তাবাদি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মদলের বরিশাল জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আহসান উজ্জামান বাদল মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম শাহীন, লন্ডন প্রবাসী গোলাম কিবরিয়া তালুকদার, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি লিটন তালুকদার, সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক সরদার, সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. সেলিম সরদার, সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মো. কবির হোসেন। 
 
সরিকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মুুিক্তযোদ্ধা মো. মেজবা উদ্দিন আকন বাদী হয়ে ৫০ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা অনেক জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। 
 
মামলায় উল্লেখ্যযোগ্য আসামিরা হলেন, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক সৈয়দ সরোয়ার আলম, ছোট ভাই সৈয়দ খায়রুল আলম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন মিলন, সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর মৃধা, সাধারন সম্পাদক আবুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বিল্পব, প্রচার সম্পাদক মো. মজনু খান, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সুজন বেপারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্কুল শিক্ষক মো. তৈয়ব আলী আকন, ১নং ওয়ার্ড সভাপতি আনিচ হাওলাদার, ৪নং ওয়ার্ড সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হাওলাদার,  ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. জামাল হাওলাদার, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক মো. মাকসুদ মৃধা, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের চাচাতো ভাই সদস্য পান্নু  সরদার ও মো. হিরা খান। গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন রাঢ়ী বাদী হয়ে ৩১ জনের নামোল্লেখ করে অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। 
 
মামলার উল্লেখ্যযোগ্য আসামিরা হলেন, গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ হুমায়ুন কবির, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজল সরকার, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সেকেন্দার মোল্লা, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মুছা সরদার, উপজেলা যুবদলের সদস্য মনির আকন।
 
মামলার বাদীদের অভিযোগ নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ওপর বোমা হামলা করেছে। এতে তাদের ২৫/৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। তারা সড়ক কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।
 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে ২৫ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী চিকিৎসা নেন। 
 
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, বিএনপি এলাকায় থাকতে পারে না তারা কি করে রাতে ধানের শীষের শ্লোগান দেয়। এটা পাগলেও বিশ্বাস করে না। বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দুরে রাখতে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। 
 
গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, বোমা হামলা রাস্তা কাটার ঘটনায় আওয়ামী লীগের তিন নেতা বাদী হয়ে পৃথকভাবে তিনটি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাস্থল থেকে রাস্তা কাটার সরঞ্জাম, বোমার আলামত ও অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু