সমন্বিত উদ্যোগ ব্যতীত দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
তিনি বলেন, সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘ইভালুয়েটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং দি অপারেশনাল পারফরম্যান্স অব ইন্টিগ্রিটি ইউনিটস আন্ডার দ্য ফ্রেমওয়ার্ক অব দ্য সিপিসিস’ শীর্ষক গবেষণার অর্ন্তবর্তী প্রতিবেদনের ওপর এক মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয় পর্যায়ে ৩,৭১৫টি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং ২৫,৩৭১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ গঠন করলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নৈতিক মূল্যবোধকে আরও শানিত করার ইপ্সিত লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণেই কমিশন এ জাতীয় গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, সমন্বিত জেলা কার্যালয়সমূহ এবং সততা সংঘের সদস্যদের কাজের ঐকতান থাততে হবে। এই সমন্বিত উদ্যোগেই দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন বেগবান হবে।
তিনি বলেন, সততা সংঘের সদস্য কিংবা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং সততা সংঘের সদস্যরা সম্মিলতভাবে সক্রিয় হয়ে নিজ প্রণোদনায় কাজ করলে তারা স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে সামাজিক ওয়াচডগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। তিনি বলেন, কমিশন বিশ্বাস করে এই গবেষণার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের নৈতিকমূল্যবোধের মানদণ্ডের প্রশ্নে তাদের অবস্থান যেমন জানা যাবে, তেমনি তাদের কাছ থেকেও উদ্ভাবনীমূলক অনেক ধারণা পাওয়া যাবে। টপ-ডাউন এ্যাপরোচ-এর মাধ্যমে গতানুগতিক কাজ সম্পন্ন হয়, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বটোম-আপ এ্যপরোচে অনেক উদ্ভাবনীমূলক কাজ করা যায়।
এসময় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, দুর্নীতি যে ভয়ঙ্কর অপরাধ এ বিষয়ে মানুষকে সংবেদনশীল করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা গেলেই দুর্নীতি প্রতিরোধ সহজ হবে। তিনি বলেন, প্রতিরোধ কমিটির সদস্য কিংবা সততা সংঘের সদস্যদের ব্যক্তি জীবনেও সততার দৃষ্টান্ত রাখতে হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ এবং প্রধান গবেষক শাহজাবীন কবির । এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক মহাপরিচালক(মানিল্ডারিং) মো. আতিকুর রহমান খান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) খান মো. নূরুল আমিন, পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ইত্তেফাক/কেকে