তালা-পাটকেলঘাটা সড়কের দুই পাশে মরা গাছ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর পানিতে নিমজ্জিত থাকায় সাতক্ষীরার তালা-পাটকেলঘাটা সড়কের দুই পাশের শতাধিক গাছ মরে গেছে। বিশেষ করে ইসলামকাটি ও কুমিরা এলাকার প্রায় কয়েক শতাধিক গাছ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মারা যায়। পানিতে নিমজ্জিত থাকায় উক্ত সড়কের গাছগুলোর ছোট-বড় ডাল শুকিয়ে এখন পথচারীদের ওপর পড়ছে। এছাড়া অধিকাংশ গাছের মূল শিকড় নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে যে কোনো সময় বড় গাছগুলো উপড়ে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় পথচারী, যাত্রী ও যানবাহনচালকেরা ঝুঁকি নিয়ে ঐ সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। তারা সড়কের এসব মরা গাছ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, তালা উপজেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের মোড়ে থেকে ইসলামকাটি হয়ে পাটকেলঘাটা কুমিরা পোড়াবাড়ী পর্যন্ত মোট ৯ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সিরিশ ও মেহগনিসহ নানা রকম গাছ রোপণ করে একটি সংস্থা। সেই গাছগুলো ধীরে ধীরে বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিতে শুরু করে। কিন্তু আম্ফান ঝড়ের তাণ্ডবে গাছগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় গাছগুলো ধীরে ধীরে মরে যায়। অধিকাংশ গাছের মূল শিকড় নষ্ট হয়ে গেছে। শামীমুল ইসলাম নামের এক পথচারী বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তালা উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। প্রায়ই শুকনো ডাল পড়ে আহত হয় পথচারীরা। অতি দ্রুত সড়কের দুপাশের মরা গাছগুলো অপসারণ করা হোক। তা না হলে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। মহেন্দ্র সমিতির সভাপতি মো. মিন্টু সরদার ও মোটরসাইকেল শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকন জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন তারা। মাঝে-মধ্যে হঠাত্ গাছের বড় বড় ডাল ভেঙে পড়ে। যত দ্রুত সম্ভব এই গাছগুলো সরিয়ে ফেলার দাবি জানান তারা।

ইসলামকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক দিন আগে ইসলামকাটি কালভার্টের পাশে একটি যাত্রীবাহী ভ্যানের ওপর বড় একটি গাছ ভেঙে পড়ে। তবে এ দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, তালা-ইসলামকাটি-পাটকেলঘাটা সড়কের শুকিয়ে যাওয়া গাছগুলো জেলা পরিষদের। গাছগুলো মরে যাওয়ার ফলে মানুষের চলাচলে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তালা থেকে পাটকেলঘাটা সড়কের গাছগুলো সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের। অধিকাংশ গাছ শুকিয়ে যাওয়ায় সড়কের ওপর ভেঙে পড়ছে। গাছগুলো কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।