২৫ কোটি টাকার সড়কের মাঝে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১:১৯

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কের মাঝখানে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই নতুন করে নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। এলাকাবাসী আবেদন নিবেদনের পরও সড়কের ওপর থেকে সরানো হয়নি শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের একেবারে ভেতরে থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে তৈরি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।

ঝুঁকিপূর্ণ এসব খুঁটি অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়ক নির্মাণ প্রায় শেষ। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে উদ্বোধনের আগেই সেই নতুন সড়কের অংশ আবার কাটতে হবে?

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রাস্তা নতুন, কংক্রিট নতুন, শুধু বাধাগুলো পুরোনো। সদ্য নির্মিত সড়কের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক বিদ্যুতের খুঁটি। কোথাও মাঝ বরাবর। কোথাও চলাচলের অংশে। আবার কোথাও রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে। সড়ক এখনও উদ্বোধন হয়নি। তাই বড় যানবাহনের নিয়মিত চলাচল শুরু হয়নি। তবে অটোরিকশাসহ স্থানীয় ছোট যানবাহন চলছে। আর নতুন সড়কে তাদের পথ আগলে আছে এসব খুঁটি। সড়কের বুকে বাধা হয়ে দাড়িয়ে থাকা এসব খুঁটির অংশে দিনের আলোতেই হিসাব কষে পাশ কাটাতে হচ্ছে ছোট পরিবহনকে।

স্থানীয়দের শঙ্কা, সড়ক পুরোপুরি চালু হলে, বড় যানবাহন নামলে ঝুঁকি বাড়বে আরও।

রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ ও ঘোড়াশালসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ এই কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়ক। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ ব্যয় ২৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঝখানে খুঁটি রেখে সড়ক নির্মাণের পরিস্থিতি যে হঠাৎ তৈরি হয়েছে তা নয়। সড়ক নির্মাণের শুরুতেই খুঁটি সরাতে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে আবেদন করেছিল সওজ। পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তরের ব্যয় নির্ধারণ করে অর্থ জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু সেই অর্থ আর সময়মতো পরিশোধ করেনি সওজ। এ কারণে সড়ক থেকে খুঁটি সরেনি। কিন্তু থামেনি সড়কের কাজও। নির্মাণ এগিয়েছে, ঢালাই হয়েছে, কাজ পৌঁছেছে ৯৫ শতাংশে। আর খুঁটি থেকে গেছে সেখানেই। 

পল্লী বিদ্যুৎ বলছে, ২০২৫ সালেই সওজকে খুঁটি স্থানান্তরের ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছিল। টাকা জমা না পড়ায় তখন খুঁটি সরানো হয়নি। এখনও সেই অর্থ না পেলেও সরকারি সড়কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

এদিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরানোর আশ্বাস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সড়কটির প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার অংশে শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের মূল অংশের মধ্যে রয়েছে।

খুঁটি অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের শর্ত দেয়। কিন্তু  বাজেটে খুঁটি সরানোর বিষয় উল্লেখ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে খুঁটি রেখেই সড়কের প্রায় ৯৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খুঁটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের অনেক সময় সড়কের বিপরীত পাশে চলে যেতে হচ্ছে। উল্টে যাচ্ছে পরিবহন। প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সড়কটি স্থানীয়দের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি রেখে নির্মাণকাজ শেষ করা হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাই দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণ করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভোলাবো ইউনিয়নের পাইস্কা গ্রামের বাসিন্দা কাজী রেজাউল হক বলেন, সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সড়কটি নির্মাণ করা হলেও খুঁটি না সরানোর কারণে এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন।

কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে খুঁটিগুলো এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাতে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, সড়কের মাঝখানের খুঁটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমিতির নিজস্ব ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নয়টি খুঁটির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, খুঁটি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনো বাজেট পাওয়া যায়নি। তবে বাজেট পাওয়া মাত্রই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যে খুঁটি অপসারণের কাজ শুরু করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি