ঝুঁকি নিয়েই যে ২ সেতুতে চলতে হয় 

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুঁচি গারোপাহাড়ি এলাকায় চেল্লাখালী নদীর উপর আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে নির্মিত দুইটি আয়রন সেতু জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বেহাল সেতু দুইটি দিয়ে অন্তত সাত গ্রামের মানুষ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুঁচি নামাপাড়া ও টিলাপাড়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। ছবি- ইত্তেফাক

জানা যায়, পোড়াগাও ইউনিয়নের বাতকুঁচি নামাপাড়া ও টিলাপাড়া এলাকায়, ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি প্রকল্পরে অর্থায়নে এই  আয়রন ব্রিজ তৈরি করা হয়। কিন্তু এর পাশে কোনো ধরনের প্রটেকশন না থাকায় গত বছরের বন্যায় সেতু দুটির পাশের মাটি ধসে পড়ে। এমন অবস্থায় পিলারগুলোও হালকা হয়ে গেছে। এলাকাবাসী ধসে যাওয়া অংশে বাঁশ দিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রতিদিন ভ্যান-রিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ আশপাশের মানুষের ভরসা এই সেতু। ছোট যানবাহন কিংবা লোকজন উঠলেই সেতুটি নড়েচড়ে উঠছে। বিশেষ করে স্কুলগামী ছোট ছেলে-মেয়ে ও বৃদ্ধদের চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে।

কৃষক সুরুজ্জামান, আব্দুল মজিদ ও আহসানসহ কয়েকজন বলেন, ‘স্থানীয়রা তাদের নিজেদের প্রচেষ্টায় সেতুর ভাঙা অংশ মেরামত করে চলাচল করছেন। কিন্তু সেতুটি তেমন মজবুত নয়। একটি সাইকেল উঠলেই কাঁপতে থাকে সেতুটি।’

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান রাব্বি বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে স্কুলে যাই প্রতিদিন। যদি পইড়া যাই। তাই ভয়ে ভয়ে সেতু দিয়া পার হই।’

আন্ধারুপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল খালেক বলেন, ‘সেতুতে মানুষ উঠলে বুকটা কেঁপে ওঠে। তাই তিনি কখনোই একা একা চলতে সাহস পান না।’ তিনি বলেন, ‘আমি অহন বুইড়া হইয়া গেছি। তাই পড়ে যাওয়ার ভয়ে সেতুতে যাইতে পারি না। সরকার যদি একটা সেতু বানাইয়া দিত তাইলে শান্তিতে সবাই চলবার পারতাম।’

অটোচালক মোতালেব বলেন, ‘মধুটিলা ইকো পার্ক ও আমবাগান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় যাত্রী নিয়ে সারাদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়া-আসা করি। সেতুটি এতই কাঁপে যে, যাত্রীদের নামিয়ে সেতু পার হই। বর্তমানে চলাফেরা করা খুব বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।’

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিকল্প কোনো রাস্তায় চলাচলের সুযোগ না থাকায় মানুষজন ও যানবাহন এই সেতু দুইটি ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে। সেতু যেকোনো সময় ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’