‘রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদ দায় এড়াতে পারে না’

রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদ দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা  পরিষদে ‘সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক উন্মুক্ত আলোচনায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

রোহিঙ্গা সঙ্কটে সৃষ্ট যৌন সহিংসতার মতো অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি বিশ্ব অবলোকন করে যাচ্ছে, সে প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, এ সকল অপরাধের সমাপ্তি ঘটানো না গেলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না। আর এই অপরাধসমূহের দায় নির্ধারণ ও বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল রোহিঙ্গাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব যা তাদেরকে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে উৎসাহিত করবে; কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি বাস্তবায়িত হয়নি।

 

এ সকল বিষয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি প্রশ্ন রাখেন, আপনারা কী প্রত্যাশা করেন এই রোহিঙ্গারা বিশেষ করে অর্বণনীয় যৌন সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা নারী ও বালিকারা ‘তাদের ওপর এ ধরনের আর কোনো সহিংসতা হবে না’ মর্মে স্পষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাবে?

 

যৌন নির্যাতন ও এর অপব্যবহার রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স পলিসি উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে বাংলাদেশ ‘যৌন নির্যাতন ও এর অপব্যবহার’ রোধে সচেতনতাসৃষ্টিসহ বাংলাদেশের সকল শান্তিরক্ষীদের জন্য পদায়নপূর্ব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন সহিংসতা ও বৈষম্যের অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে এর বিচার ও প্রতিকারে আমরা নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছি। ‘ইউএন উইমেন’ এর সহযোগিতায় আমাদের সরকার ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে”।

আরো পড়ুন : ভ্যাপসা গরমে ডায়ারিয়ার প্রকোপ

এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত মাসুদ বাংলাদেশে যৌন নির্যাতন ও সহিংসতা রোধে আইন, নীতিমালা ও তদন্ত ব্যবস্থা শক্তিশালী করা; নির্যাতনের স্বীকার নারীকে সুরক্ষাদানের পাশাপাশি তার প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং পূনর্বাসনসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বিনির্মাণ করার সরকারি পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করেন।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ, জাতিসংঘ মহাসচিবের যৌন সহিংসতা রোধ বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন, ২০১৮ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. ডেনিস মুখউইজি ও নাদিয়া মুরাদ এবং ব্যারিস্টার অমল ক্লুনে এই উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

 

ইত্তেফাক/ইউবি