সামান্য ভুলের বড় খেসারত!

হোমনায় সামান্য ভুলের কারণে একটি ষাঁড়সহ চারটি গাভি একে একে চার ঘণ্টার মধ্যে মারা গেছে। গাভি মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরুর মালিক মোশারফ হোসেনের সব স্বপ্নও যেন চুরমার হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে উপজেলার বিজয়নগর গ্রামে কৃষক মোশারফ হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে মোশারফ হোসেন তার ইরি-বোরো ধানখেতের জন্য পাঁচ কেজি ইউরিয়া সার এবং পালিত গাভি ও ষাঁড়ের জন্য হোমনা বাজার থেকে পাঁচ কেজি ভুসি কিনেন। পরে পলিথিনে মোড়ানো সারগুলো ভুসির ব্যাগে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে এসে ব্যাগ খুলে দেখেন পলিথিন ছিঁড়ে সব সার ভুসির মধ্যে পড়ে গেছে। এরপর তিনি একটি চালুনি দিয়ে ভুসিগুলো চেলে সারগুলোকে আলাদা করেন। পরে তিনি ঐ ভুসি দিয়ে সন্ধ্যায় তার পালিত গুরুগুলোকে পানি খাওয়ান। এর কিছুক্ষণ পরে একটি গাভিন গরু ছটফট করে মারা যায়। এতে তিনি ও স্ত্রী সন্তানের গাভির জন্য চিৎকার করতে থাকলে আশপাশের লোকজন তার বাড়িতে ছুটে আসে। এর আধা ঘণ্টা পরে আরেকটি গাভিন গরুর মৃত্যু হয়। পরে রাত ১০টার দিকে কয়েক দিন আগে বাচ্চা প্রসব করা আরেকটি গাভি ও সর্বশেষ রাত ১১টার দিকে একটি ষাঁড় মারা যায়। স্থানীয় শত লোকের সামনে গরুগুলো ছটফট করে মারা যায়। এতে এ সময় গাভির মালিকসহ স্থানীয় লোকজনের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে যায়।

মোশারফ হোসেন বিলাপ করতে করতে বলেন, আমি সামান্য লোকসান বাঁচাতে গিয়ে নিজের হাতে আমার সন্তানতুল্য গরুগুলো মেরে ফেললাম। আমি যদি সার মেশানো ভুসিগুলো গরুগুলোকে না খাওয়াতাম তাহলে এই দৃশ্য দেখতে হতো না। 

স্থানীয় বাসিন্দা জজ মিয়া বলেন, রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শ শ মানুষের চোখের সামনে এমন করুণভাবে গরুগুলো মারা গেল। অসহায়ভাবে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কারোরই কিছু করার ছিল না। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, গরুকে কোনোভাবেই সরাসরি ইউরিয়া সার খাওয়ানো যাবে না। সেটা বেশি হউক বা খুবই অল্প পরিমাণে। পানির সঙ্গে সরাসরি সারগুলো গরুর পেটে যাওয়ার কারণেই সেগুলো মারা গেছে।