নরসিংদীর রায়পুরায় মরা নদীর পানি সরতে না পারায় ফসলি জমিতের বছরের পর বছর আটকে আছে কচুরিপানা। এসব কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি আগাছা, পোল্ট্রি ফার্মের বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলায় মাটি ও পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে।
উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের তালুককান্দি এলাকায় ২০০ গজের মধ্যে অবস্থিত ইউপি কমপ্লেক্স, ঐতিহ্যবাহী তালুককান্দি বাজার, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এসবের পাশ দিয়ে মাহমুদাবাদ পুরাতন ফেরিঘাট থেকে তুলাতলী হয়ে মেঘনায় চলে যায় বহ্মপুত্রের শাখা (বর্তমানে মরা নদী)। এই মরা নদীতে প্রায় ৬ বছর ধরে পানি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ফসলি জমিতে কচুরিপানা ও আগাছা জমতে থাকে। প্রায় ৬ বছর ধরে শতাধিক কৃষক চাষাবাদ করতে পারছেন না। সেই সঙ্গে নদীর তীরে থাকা পোল্ট্রি ফার্মের বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনায় দুষিত হচ্ছে পরিবেশ।
আলী আকবর গান্ধী, আব্দুল হাইসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, এসব জমিতে ৫-৭ বছর আগেও চাষাবাদ করে ভালো ফসল উৎপাদন করতাম। কিন্তু নদীর পানি প্রবাহ কমতে থাকায় জমিতে কচুরিপানা আটকে যায়। ফলে পাঁচ-ছয় বছর ধরে আমরা কোনো চাষাবাদ করতে পারছি না।
মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হোসেন ভূইয়া জানান, কৃষকদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি, তাই বিষয়টি অবগত নই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে জমিগুলো ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।