শিক্ষায় এগিয়ে যেতে মাতৃভাষায় শেখা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমাদের শিক্ষার মান বাড়াতে একাডেমিক মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। আমরা আগের তিনটি বিপ্লব ধরতে পারিনি। এইবার আমাদেরকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে মোকাবেলা করতেই হবে। এই শিল্পবিপ্লব ধরতে আমাদেরকে মাতৃভাষায় শেখাটা জরুরি।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত ‘ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস বাস্তবতা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

JnU program 21-2-22

মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষার মান বাড়াতে একাডেমিক মহাপরিকল্পনার সঙ্গে প্রয়োজন হবে ভৌত অবকাঠামো মহাপরিকল্পনা। এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষায়, বিজ্ঞানে এবং প্রযুক্তিকে এগিয়ে যাব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সময়ে নিজেদের মাতৃভাষায় শিক্ষিত হতে পারা ব্যাপক গুরুত্ব বহন করবে। দেশে নতুন যে শিক্ষাক্রম হচ্ছে সেখানে বিজ্ঞানের বিষয়সহ অন্য বিষয়গুলো আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় তৈরি করা হবে। নিজেদের ভাষায় উচ্চশিক্ষার অবকাঠামো তৈরি হলে আমরা শিক্ষায় অনেকদূর এগিয়ে যাব।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, দেশে নতুন নতুন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হচ্ছে। তবে আমাদের সবাইকে শিক্ষার মানের দিকে জোর দিতে হবে। শিক্ষার মানের ওপর নজর দিতে পারলে আমরা শিক্ষায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এগিয়ে যেতে পারব।

JnU Session 21-2-22

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মঙ্গলবার থেকে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম পাইলটিং শুরু হচ্ছে। আগামী মার্চে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণিতে পাইলটিং শুরু হবে। নতুন যে শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে সেটা হবে আনন্দময়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ শিক্ষাক্রমে শিখতে পারবে। তারা সমাজকে এবং শিক্ষকদের প্রশ্ন করার মাধ্যমে শিখবে। তবে শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠলেই চলবেনা, পাশাপাশি তাদের ভালো মানুষ হতে হবে।

আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, যখন কোনো দিবস আসে তখন সেটা নিয়ে আলোচনা করি, তারপর ভুলে যাই। আমরা যেন সারাবছর এ বিষয়টি (মাতৃভাষা) নিয়ে আলোচনা করি। শুনেছি এখন থেকে আদালতের রায় বাংলায় লেখা হবে। এটা আমাদের একটি ইতিবাচক অর্জন। এখন সবাই নিজের ভাষায় রায় পড়তে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক কামালউদ্দীন আহমেদ বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে শাহজালাল বিমানবন্দর নামটা আরবিতে লেখা ছিল। তখন ধর্মের সঙ্গে ভাষার একটা ব্যবহারের চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল তাকেও ভাষা আন্দোলনের সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা আমরা দেখেছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম লুৎফুর রহমান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।