রাজধানীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থান হাতিরঝিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও অন্যান্য সময় নগরবাসীর ভিড় জমে এখানে। হাতিরঝিলের ৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে বাহারি বাতি জ্বললেও বাড্ডা (হাতিরঝিল মোড়) থেকে শাহজাদপুর লেক ড্রাইভ সড়কের চিত্র উল্টো। ২দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটিতে সন্ধ্যার পরই ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। এখানে জ্বলে না কোনো সড়কবাতি। এই সুযোগে চুরি-ছিনতাইসহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এই নিয়ে গত ২৩ জানুয়ারিতে ইত্তেফাক অনলাইন বিভাগে ‘হাতিরঝিলের যে সড়কে সন্ধ্যা নামতেই ভুতুড়ে পরিবেশ হয়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নজরে আসে। আর তখনই বাতি লাগানোর ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাতিরঝিলের লেক ড্রাইভ সড়কে বাতিতে আলো জ্বলতে শুরু করেছে। এদিকে লেক ড্রাইভ সড়কে বাতিতে আলোর জ্বলার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছে স্থানীয়রাসহ এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারীরা।
হাতিরঝিল শাহজাদপুর লেক ড্রাইভ সড়কের স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘এই সড়কে প্রায় ৩ বছর ধরে সড়ক বাতিতে আলো জ্বলতো না, এতে আমাদের অনেক অসুবিধা হতো এমনকি জানমাল নিয়ে ভয়ে থাকতাম। এখন সড়কে আলো জ্বলাতে আমরা জানমাল নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারবো।’
সড়কের আলো জ্বলা বিষয়ে স্থানীয় মোবারক হোসেন ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘লেক ড্রাইভে সড়কে অন্ধকারে মধ্যে চলাচল করতে অনেক ভোগান্তি হতো। ইত্তেফাক অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর এই সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আলো জ্বলতে শুরু করেছে। তাই ইত্তেফাক অনলাইন ও রাজউককে ধন্যবাদ। আশা করি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আলো জ্বালানোর পাশাপাশি সড়কে মেরামত করা হবে।’
রবিবার সন্ধ্যায় (২৭ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, বাড্ডা হাতিরঝিল (মায়া কুঞ্জ) থেকে শাহজাদপুর (আমেরিকান অ্যাম্বাসির পেছনের অংশ) পর্যন্ত পুরো সড়কে শতাধিক সড়কবাতির খাম্বা রয়েছে। সেখানের তিন ভাগের মধ্যে দুইভাগের বাতিতে আলো জ্বলতে দেখা গেছে। তবে এখনো অনেক খুঁটিতে সড়কবাতি প্রতিস্থাপনের বাকি রয়েছে। কিছু অংশের খাম্বাতে সড়কবাতি চুরি হয়ে যাওয়ায় তাতে নতুন করে মেরামত বাতি লাগাতে হবে।
২০১৮ সালের নভেম্বরে লেক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ৩০ ফুট চওড়া এই সড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুলশান অ্যাভিনিউর যানজট কমানো। এছাড়া লেকপাড়ে ৬ ফুট আর বিপরীত পাশে ৩ ফুট চওড়া ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে লোকজন হাঁটতে-বেড়াতে আসতে পারে। বর্তমানে পুরো হাতিরঝিল প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে রয়েছে রাজউক।
হাতিরঝিল লেক ড্রাইভে সড়কে বাতি জ্বলা নিয়ে সড়ক মেরামত বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান এবি.এম আমিন উল্লাহ নুরী দেশে না থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.) ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘হাতিরঝিল শাহজাদপুর লেক ড্রাইভ সড়কে অনেক দিন ধরে আলো জ্বলতো না, এতে ওই সড়কে চলাচলকারী সবার অসুবিধা হতো। ইত্তেফাকের অনলাইনের এই প্রতিবেদনের পর রাজউকের চেয়ারম্যান দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের আলোর ব্যবস্থা করেন। আশা করি, শিগগিরই সিটি করপোরেশনকে সঙ্গে নিয়ে রাজউক সড়কটি মেরামত করবে।’