ওপরে মেট্রোরেলের কাজ, নিচে সড়কে চলছে ড্রেনের কাজ। ফলে দুই দিকের কাজের কারণে বাতাসে উড়ছে মাত্রা অতিরিক্ত ধুলোবালি। যে দিকে চোখ যায়, এ যেন ধুলোর রাজ্যে বসবাস। দুই মিনিট দাঁড়ালেও নাক মুখ ডেকে রাখতে হচ্ছে। এটি মিরপুরের বেগম রোকেয়া সরণির চিত্র। শুধু ধুলোবালিই নয়, সড়কের পড়ে আছে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ। একে তো ধুলোবালি, সঙ্গে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার কারণে নাকাল এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেগম রোকেয়া সরনি সড়কে পশ্চিম শেওড়া পাড়া এলাকায় একপাশে সড়কে ড্রেনের কাজ চলায় বন্ধ রয়েছে সড়ক। সড়কে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। পুরো রাস্তায় উড়ছে ধুলোবালি। পাশেই পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকায় গলির সড়কে কার্পেট উঠে গিয়ে মাটি দেখা যাচ্ছে। এমন সড়ক দিয়ে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। সড়কে এমন ধুলোবালির বিষয়ে চায়ের দোকানদার শাহীন আলী বলেন, ‘ধুলোবালি কেমন সেটা পাঁচ মিনিট এখানে দাঁড়ান দেখবেন। অসহ্য হয়ে গেছি । ছয় মাসের ওপরে এ অবস্থা। কবে যে এ বালু থেকে নিস্তার পাবো।’ ষাটোর্ধ্ব হাশেম খান বলেন, ‘সারা বছরেই এমন কাজ চলে। এতে দুর্ভোগ যেন শেষই হয় না। পাঁচ বছর আগেও এমন ছিল না।
এখন আমাদের হয়রানি আরো বাড়ছে। এমন ধুলোবালি সারাক্ষণ উড়ছে কিন্তু পানি ছিটাতে দেখিনি। কারো যেন কোনো দায় নেই।’ দোকানি হাফিজ মিয়া জানান, ‘একে তো মেট্রোরেলের কাজ। এখন আবার সড়কের কাজ চলছে ছয় মাস ধরে। এতে ধুলোবালি নিয়ে দোকানদারি করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এমন দুর্ভোগের একটা স্থায়ী সমাধান দরকার। শুধু ধুলোবালি নয়, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনাও পড়ে আছে সড়কে। ’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডটি শেওড়াপাড়া, পূর্ব ও পশ্চিম সেনপাড়া পর্বতা, পূর্ব ও পশ্চিম কাজীপাড়া, পূর্ব ও পশ্চিম কাফরুল নিয়ে গঠিত। একই সঙ্গে মিরপুর ও কাফরুল থানার অন্তর্ভুক্ত এটি। ওয়ার্ডটির আয়তন প্রায় ২ বর্গকিলোমিটার। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, দক্ষিণ-পশ্চিম কাফরুল, পূর্বে ইব্রাহিমপুর, পশ্চিমে রয়েছে পীরেরবাগ। এই এলাকায় গার্মেন্টস কারখানা, বিপণিবিতান, কলকারখানা এবং বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় এখানে রয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এখানে বর্ষায় জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব আর ময়লা-আর্বজনার দুর্গন্ধ নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে এর সঙ্গে এখানে সড়কে সারা বছর খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সড়কের পাশ দিয়ে একদল শিক্ষার্থীকে নাকে হাত দিয়ে চলতে দেখা গেছে। তারা বলে, ‘স্কুলের যাতায়াতে রোকেয়া সরণি সড়ক ব্যবহার করতে হয় আমাদের। কিন্তু এই সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। মনে হয় যেন বালুর রাজ্যে এসে পড়েছি আমরা।’ এ বিষয়ে জানার জন্য ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হুমায়ন রশিদ জনিকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি কয়েক দিন যাবত বন্ধ রয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদ আলী বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে পানি ছিটাই। তবে এই এলাকায় মেট্রোরেলের কাজ চলায় একটু সমস্যা হচ্ছে। আমি খোঁজ নেব বিষয়টি সম্পর্কে। মানুষের দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করব। ’