পুরো সড়কই যেন বাস টার্মিনাল

দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকায় দীর্ঘ সড়কের পুরোটা জুড়েই দাঁড়িয়ে থাকে শত শত দূরপাল্লার বাস। একটি ছেড়ে যেতে না যেতেই আরেকটি এসে স্থান দখল করে। এই অবস্থা চলছে গত দেড় বছর ধরে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

দেখা গেছে, পুরো সড়কটিই যেন বাস টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোর কারণে কি রকম বিপত্তির সৃষ্টি হয় তা প্রতিদিনকার ভুক্তভোগীরাই জানেন। তীব্র জটে পড়ে যাত্রীরা অনেক সময় ট্রেন-বাস ‘ফেল’ করেন। ঐ সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বাসগুলো রাখার করণে সেখানে গড়ে উঠেছে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য। সন্ধ্যা নামলেই গা ছম ছম ভাব বিরাজ করে। তাছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও বিদ্যমান।

বিভাগীয় নগরী সিলেটের প্রবেশদ্বার দক্ষিণ সুরমা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সড়ক ও রেলপথে আসা-যাওয়ার পথ দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকা। দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনালের পাশেই সিলেট রেল স্টেশন। অদূরেই সুরমা নদীর ওপর ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ। প্রতিদিন ঐ পথ দিয়ে ৫০ সহস্রাধিক মানুষের চলাচল। কিন্তু ক্বীন ব্রিজ থেকে কদমতলী টার্মিনাল হয়ে হুমায়ূন রশীদ চত্বর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে এলোপাথাড়ি বড় বড় বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে এ সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয় এই পথ দিয়েই। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৯ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তা ২০২২ সালে এসেও শেষ হবে কিনা বলা যাচ্ছে না।

ট্রেনযাত্রী আমজাদ হোসেইন জানান, কয়েক দিন আগে ঢাকা যেতে রেল গেটই খুঁজে পাইনি। গেটের সামনে বড় বড় বাস দাঁড়ানো ছিল। একটু দেরি হলে টিকিট নষ্ট হতো। এ বিষয়ে এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) আশরাফ উল্লাহ তাহের ইত্তেফাককে জানান, কদমতলীতে যানজটের বিষয়ে রয়েছি। নাইটকোচগুলো ভোরে সড়কের ওপর রেখে ড্রাইভার চলে যায়। এতে জট বেশি হয়। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশকে দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ভোগ লাঘবে আরো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কদমতলী সড়কে অব্যবস্থা সম্পর্কে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল কবীর পলাশ বলেন, জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে আমরাও অবহিত এবং মর্মাহত। কিন্তু ঐ স্থানে গাড়ি রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে আমরা নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে সড়ক জঞ্জাট মুক্ত রাখার চেষ্টা করি। তিনি বলেন, গত তিন বছর থেকে এই সমস্যা চলছে। সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে টার্মিনালে কাজ শেষ না হলে, গাড়িগুলো টার্মিনালে ঢুকে পড়লে কিছুই করার থাকবে না।