রক্ত পাওয়া গেছে শেন ওয়ার্নের ঘরে 

ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়েছে শেন ওয়ার্নের মরদেহ। রিপোর্টে জানা যাবে কিংবদন্তি এই অজি লেগ স্পিনারের মৃত্যুর কারণ। এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ডের পুলিশ হার্ট অ্যাটাক বলেই ধারণা করছে। দেশটির সামুজানা ভিলায় যেই ঘরে থাকতেন ওয়ার্নে সেই ঘরে তদন্ত করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে রক্ত পেয়েছে পুলিশ। কার্পেট, তিনটি তোয়ালে ও একটি বালিশে পাওয়া যায় রক্তের ছাপ।

প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় ওয়ার্নের দুই বন্ধুকে। কিন্তু সন্দেহজনক কিছু পায়নি পুলিশ। সুরাট থানি প্রোভিন্সিয়াল পুলিশের কমান্ডার পল মাজ পলপিনিত স্হানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘ঘরে প্রচুর পরিমাণে রক্ত পাওয়া গেছে। যখন সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার প্রক্রিয়া) দেওয়া শুরু করছিল তখন মৃতের মুখ থেকে কাশির মাধ্যমে পানীয় ও রক্ত বের হয়।’

অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন ৫২ বছর বয়সি ওয়ার্ন। হার্টের জন্য চিকিত্সকের শরণাপন্নও হয়েছিলেন তিনি। এমনটাই জানান পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট পল কল ইউত্তানা সিরিসোমবাট, ‘তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছি যে, দেশে থাকতে তার বুকে ব্যথা উঠেছিল।’

ওয়ার্নের অকাল মৃত্যুর খবর পেয়ে অন্য সবার মতো হতভম্ব হয়ে পড়ে তার পরিবারও। ২২ বছর বয়সি ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন মুহূর্তটিকে দুঃস্বপ্ন বলেই ভাবছেন। এখনো দরজায় বাবার কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পান তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন ওয়ার্নের ম্যানেজার জেমস এরকস্টাইন। দুই মেয়ে ব্রুক ওয়ার্ন (২৪) ও সামার ওয়ার্ন (১৯) এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি বাবার মৃত্যুর পরে।

ময়নাতদন্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে ওয়ার্নের মরদেহ। তা যেন দ্রুত হয় সেজন্য থাইল্যান্ডে অবস্হিত অস্ট্রেলিয়ান অ্যাম্বাসিকে জানিয়েছে ওয়ার্নের পরিবার। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে তার শেষকৃত্য। শরীরের ওজন কমাতে বন্ধুদের সঙ্গে থাইল্যান্ডে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন ওয়ার্ন। ফিট হওয়ার জন্য ছিলেন ১৪ দিনের ‘লিকুইড ডায়েটে’। কিন্তু থাইল্যান্ড পৌঁছানোর একদিনের মধ্যেই গত ৪ মার্চ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। অপ্রত্যাশিত সেই শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ক্রিকেট বিশ্ব।