মন্ত্র ছাড়া জাদু সম্ভব না, ছোটবেলা দাদীর কোলে শুয়ে রূপকথার গল্প শুনতে শুনতে এমনটাই জেনেছিলাম। আর তৎকালীন চৌকস, দুর্ধর্ষ পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে বাঙালি কৃষক, শ্রমিক, জনতাকে জোটবদ্ধ করে যুদ্ধে জয়ী হওয়া যেন জাদুরই নামান্তর। আর সেই মন্ত্রটি কি ছিলো জানেন!
“এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।”
এই স্বাধীনতার জাদুকরের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিলো বাঙালি জাতির ভবিষ্যৎ। এক নেতার ডাকে, এভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে যুদ্ধের ময়দানে অংশগ্রহণ ও বীরদর্পে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার ইতিহাস পৃথিবীর বুকে বিরল।
আর একজন সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে সাহিত্যের রসের অনুপাত দিয়েও যদি চিন্তা করি, তবুও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পৃথিবীর বুকে বিরল। যেখানে সাহিত্যের অনেক রস নানান অনুপাতে মিশ্রিত। এই ভাষণকে এক মহাকবির অনলবর্ষী কাব্যিক প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ বললেও বোধহয় ভুল হবে না। আর সেই কাব্য প্রতিভার জন্যই হয়তো তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউজ উইক পত্রিকার দ্বারা ‘রাজনীতির কবি’ হিসেবে ভূষিত হয়েছিলেন।
আজকের যুবসমাজ বা আমরা তাঁর একটি কথা অনুসরণ করলেই হয়তো সমাজ থেকে সব অন্যায়-অবিচার দূর করা সম্ভব হবে। মনে পড়ে বঙ্গবন্ধুর সেই অমোঘ বাণী, “সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবানা”
—সাব্বির আহম্মদ, ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
রাজনীতির মহাকবি, ইতিহাসের মহানায়ক, আপাদমস্তক বাঙালি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখনিঃসৃত ৭ মার্চের সেই অমিয় ভাষণ এক অজেয় অর্কেস্ট্রা। ১৯ মিনিটের সেই অলিখিত ভাষণই ছিলো বাঙালির মুক্তির সনদ। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ শেষ করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী শব্দযুগল 'জয় বাংলা' উচ্চারণ করে। একজন বলিষ্ঠ, দৃঢ়চেতা, প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী মানুষ, হিমালয়সম ব্যক্তিত্বে বলীয়ান একজন প্রকৃত নেতার স্বভাবসুলভ বক্তৃতা ১৯৭১ এর ৭ মার্চ হয়ে উঠেছিল অনন্য, অনবদ্য ও বহুমাত্রিকতায় পরিপূর্ণ। এ ভাষণ ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্ভাসিত। স্বাধীনতার অভয়মন্ত্রে উদ্দীপ্ত, ওজস্বী সে ভাষণ ছিল সত্যিই এক জাদুর কাঠি; যা প্রতিটি বাঙালির শোণিতে গ্রোথিত করেছিল মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। স্বাধীনতার ৫১ তম বছরে এসেও আজ আমাদের আবারও '৭১ এর ৭ মার্চের সেই ভাষণের চেতনায় প্রজ্জ্বলিত হবার সময় এসেছে। জাতি হিসেবে একাট্টা হয়ে আবারো নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্নকে সত্যি করার প্রত্যয় বুকে ধারণ করার সময় এখনই। নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ আর না হউক।
জয় হউক বাংলার।
জয় হউক বাঙালির।
—মোঃ আবু রাহাত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক সেই ভাষণের প্রতিটি বাক্য ব্যাখ্যার দাবী রাখে। ১৯ মিনিটের নাতিদীর্ঘ ভাষনে পুরো জাতির ইতিহাস, বর্তমান ও ভবিষ্যতের চিত্র যেভাবে তুলে এসেছে তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। বাঙালি জাতীয়তাবাদের সূচনাগার ভাষণ থেকেই বলা যায়। ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিটি প্রজন্মের কাছে শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার অমোঘ বাণী। বঙ্গবন্ধুর সেই চির অমিয় বাণী 'আমাদের দাবায়া রাখতে পারবা না' বারংবার মনে করিয়ে দেয় পৃথিবীর বুকে পেশী শক্তি দিয়ে দাবিয়ে রাখার মতো জাতি বাঙালিরা নয়।
একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে চারিদিকে যখন দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সামাজিক দূরাবস্থার মতো সমস্যা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণই হতে পারে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
—মাসুম মাহমুদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙ্গালির নিকট অমর কবিতা। যদি ১৯৭১ সালের কথা চিন্তা করা হয়, তবে ৭ই মার্চের ভাষণের সঠিক মর্ম বুঝা সম্ভব। তখন বাঙ্গালিরা সকলেই বুঝতে পারছিল কি হতে চলছে। জনগনের মধ্যে প্রতিবাদের যে স্ফুলিঙ্গের উদয় হয়েছিল, ঐ স্ফুলিঙ্গকে আগুনে রুপান্তর করার জন্য প্রয়োজন ছিল নেতৃত্বের, যিনি কিনা দিক দর্শন দিবেন। সেই নেতাই হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তিনি অবিসংবাদিত নেতা। তিনি এ বাঙালি জাতির পিতা।
বর্তমান তরুণেরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে অনুপ্রেরণা নেয়। নিজের মধ্যে ধারন করে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে তরুণরা আজ ভয় পায়না, পিছপা হয়না। এ সব কিছুই বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ফলাফল।
“যতদিন রবে পদ্মা, যমুনা, গৌরী, মেঘনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান“
- এ বাক্যের সঠিক প্রতিফলনই যেন বর্তমানের তরুণেরা।
আমরা বর্তমান তরুণেরা বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, শুধু বইয়ের পাতায় বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখেছি, পত্র-পত্রিকায় পরেছি, টেলিভিশনে ভিডিও ক্লিপ দেখেছি। আমরা যদিও ৭ মার্চের সেই অমর কবিতা শুনিনি, তবে আজও সেই ভাষণের অংশ গুলো যখন শোনা হয়। তখন অবলোকন করতে পারি, এই কবিতা কেন অমর কবিতা। তিনি যে শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, তা সেই কবিতার মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এক ছন্দে, এক সুরে উজ্জীবিত করার অনুপ্রেরণা যোগায়।
—সানোয়ার হোসেন, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
বাঙালির জাতীয় জীবনে ৭ই মার্চ এক অবিস্মরণীয় দিন। এ দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লক্ষাধিক মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। যা ইতিহাসখ্যাত ৭ই মার্চের ভাষণ। এটা শুধু একটা ভাষণই নয়, এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ডাক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর আহবান। এ ভাষণ নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে রাতারাতি সশস্ত্র করে তোলে। তরুণ প্রজন্মকে শিখিয়েছে কিভাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, অন্যের মতামতকে প্রধান্য দিতে হয়। ভাষণটি যতবারই শোনা যায় ততবারই ভাবণা তৈরি হয়। এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য একেকটি স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে, নতুন বার্তা দেয়। ৭ই মার্চের ভাষণের শেষের দুই লাইন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” -ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক। ৭ই মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন ও অন্যায়ের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে থাকুক।
—মো. রাজিব হোসেন, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্তয়মান বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ; বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয় এক ঘটনা। যেটি ছাড়া বাংলাদেশর স্বাধীনতা কল্পনা করা সম্ভব নয়।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)-এ যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়োছিলো লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের মুক্তির জন্য। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর, এই ভাষণকে ইউনেস্কো (UNESCO) ডকুমেন্টারি হেরিটেজ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) বা বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। গোটা বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম কয়েকটি কালজয়ী ভাষণের মধ্যে এটি অন্যতম। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় সারা বিশ্বের মানুষের জন্য অর্থাৎ জাতি, ধর্ম-বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকলের নিকট সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার অনবদ্য দলিল ১৮ মিনিটের ভাষণটি। যেখানে ফুটে উঠেছে স্বাধীনতা রক্ষার মূল্যবোধ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দৃঢ় মানসিকতা, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
—মুমতাহিনা মুনা, লোক প্রশাসন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।