ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে তৌহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। সেই শিক্ষকের দ্রুত গ্রেফতার, বিচার ও চাকুরি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয় সম্মিলিত ছাত্রজোট। সোমবার (৭ মার্চ) সকালে পৌর শহরের শিবদিঘি মোড়ে সড়ক অবরোধ করে তারা।
জানা যায়, রাণীশংকৈল উপজেলার সহোদর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে পাইলট হাইস্কুলের শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম পৌর শহরের ভান্ডারা মহল্লার ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনা জানাজানি ওই শিক্ষার্থীর বাবা তৌহিদুলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তহিদুল ১৫ লক্ষ টাকার যৌতুক চেয়ে বিয়ে করতে চান। বৃষ্টির বাবা এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজন গত ৩ মার্চ ওই শিক্ষার্থীকে তৌহিদুলের বাড়িতে রেখে আসে। ওই শিক্ষার্থী বিযের দাবিতে সে বাড়িতে অবস্থান নিলে তৌহিদুল বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে পরদিন ৪ মার্চ তড়িঘড়ি করে অন্যত্র বিয়ে করেন। এতে ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ৫ মার্চ তৌহিদুলের বিচার চেয়ে পৌর শহরে মানববন্ধন করে। ওই দিনেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সেই সঙ্গে ইউএনও এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
বর্তমানে বিয়ের দাবিতে গত পাঁচ দিন ধরে শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে অনশন করছেন ওই শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) থেকে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের দাবিতে ওই শিক্ষকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। এ বিষয়ে তিনি জানান, কম্পিউটার অপারেটর তৌহিদুলের সঙ্গে আমার ৩ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এখন তিনি আমাকে এড়িয়ে চলছেন। অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করেছেন। আমি আমার অধিকার আদায়ের জন্য পাঁচ দিন ধরে তৌহিদুলের বাড়ীতে অবস্থান করছি। তৌহিদুলের পরিবার আমাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাকে বিয়ে না করলে আমি এ বাসা থেকে যাবো না।
এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে রাজপথে নামেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সম্মিলিত ছাত্রজোট। আজও শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিল শেষে পৌর শহরের শিবদিঘি মোড়ের সড়ক দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখে তারা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সুমি আক্তার, তাবাসসুম জানান, আমাদের সহপাঠীর সঙ্গে যে অন্যায় অবিচার হয়েছে তার সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আজ ধরে ৫ দিন হয়ে গেলো এখনো কোন সমাধান হয়নি। আমরা চরিত্রহীন শিক্ষকের কঠিন শাস্তি চাই। যাতে তার শাস্তি দেখে আর কোন শিক্ষক ভুল করেও শিক্ষার্থীদের দিকে কু-নজরে না তাকায়। লম্পট তৌহিদুল গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
পরে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) তোফাজ্জল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিত সাহা, ওসিতদন্ত আব্দুল লতিফ শেখ ও শিক্ষা কর্মকর্তা আলী শাহরিয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত ছাত্র-জনতাকে শান্ত করেন ও যথারীতি দ্রুত আসামি তহিদুলকে গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাকে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা গত তিন দিন ধরে আন্দোলন করছে? এমন প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সহকারী পুলিশ সুপার (রাণীশংকৈল সার্কেল) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগ করছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ ব্যাপারে ওসি তদন্ত আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত আছে। আসামি বর্তমানে পলাতক আছে। ভিকটিম মেয়েটিকে মেডিকেল টেস্টের জন্য জেলায় পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।