ডিওতে ভোজ্য তেল সরবরাহে টালবাহানা

পাইকারি বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ নিয়ে লুকোচুরি চলছে। পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো নতুন করে ডিওতে (ডেলিভারি অর্ডার) খোলা সয়াবিন তেল সরবরাহ দিচ্ছে না। ফলে পাইকারি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহে নানা টালবাহানা করা হচ্ছে। তিন-চার দিন ঘুরিয়ে তেল ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। ভোজ্য তেলের বাজার নিয়ে কি হচ্ছে তা নিয়ে পাইকারি বিক্রেতারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের সোনা মিয়া মার্কেট ভোজ্য তেলের প্রধান পাইকারি বাজার। এই মার্কেটে শতাধিক পাইকারি বিক্রেতা রয়েছে। রয়েছে কয়েক শত ব্রোকার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সোনা মিয়া মার্কেট ব্যস্ত থাকে। এখানে তেলের কোন গুদাম নেই। শুধু স্লিপ বেচাকেনা হয়ে থাকে। স্লিপ একাধিক বার হাতবদল হয়ে থাকে। চট্টগ্রামসহ আশপাশের ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেলের এই পাইকারি বাজার থেকে চাহিদা অনুপাতে ভোজ্য তেল কিনে থাকেন। পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ, হঠাত্ নতুন করে ডিওতে তেল বিক্রি নিয়ে টালবাহানার কারণে বিপাকে পড়েছে পাইকারি বিক্রেতারা।

গত কয়েক সপ্তাহ যাবত দফায় দফায় খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সয়াবিনের এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, বুধবার পাইকারিতে পাম অয়েল প্রতি মণে ৫০০ টাকা কমে ৫ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সয়াবিনের দাম কমেনি। সয়াবিন বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৬ হাজার ২০০ টাকায়। পাইকারি বিক্রেতা মোহাম্মদ ইলিয়াছ  বলেন, পাম অয়েলের দাম কিছুটা কমেছে। মিল মালিকরা নতুন করে সয়াবিনের ডিও দিচ্ছে না। আগের ডিও কমে গেছে। নতুন করে ডিও না দেওয়ায় পাইকারিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে।’

দেশের শীর্ষস্থানীয় এক ভোজ্য তেল আমদানিকারক জানান, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ভোজ্য তেল মজুত আছে তা দিয়ে পবিত্র রমজান মাস পর্যন্ত চাহিদা হয়তো মেটানো যাবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন প্রতি টন ২ হাজার ডলার ও পাম অয়েল ১ হাজার ৯১০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। দেশে সরকার ভোজ্য তেলের বাজার দর নির্ধারিত করে দিচ্ছে। ফলে দাম না বাড়ালে নতুন করে বুকিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। আমদানি করা সয়াবিন এলসি খোলার পর দেশে পৌঁছতে প্রায় দুই মাস সময় লাগে। আর পাম অয়েল এক মাসের মধ্যে দেশে পৌঁছে যায়।