আইন অমান্য করে লাইসেন্সহীন অদক্ষ চালকের কারণে সড়কে দুর্ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেপরোয়া গতির বড় গাড়িগুলো ছোট যানবাহনগুলোকে চাপা দিয়ে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল শুক্রবার (১১ মার্চ) পর্যন্ত দুই মাস ১১ দিনে কুমিল্লা-সিলেট, কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ২৫টি স্থানে গাড়িচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ জন। এদের বেশির ভাগই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের আরোহী। কুমিল্লা হাইওয়ে, থানা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, অসম প্রতিযোগিতা, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক চঞ্চলতা এবং ট্রাফিক আইন না মানাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার বুড়িচংয়ে প্রাইভেট কার চাপায় রবিউল হোসেন ও আনিস নামে দুই জন নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে একই উপজেলার নাজিরা বাজার এলাকায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মো. দিদার হোসেন নিহত হন। এদিন কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বারে বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছাত্র নিহত হয়। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত জেলার সড়ক-মহাসড়কে গাড়ির চাপায় প্রাণ হারান ৩৩ জন। গত ১ জানুয়ারি বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী জসিম উদ্দিন নিহত হন। পৃথক স্থানে ডাম্প ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী মো. রানা এবং ট্রাক্টর চাপায় স্কুলছাত্রী আলেয়া আক্তার প্রাণ হারায়। ৬ জানুয়ারি কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের লাকসামে দ্রুতগতির বাসের চাপায় নিহত হন অটোরিকশার যাত্রী বাহারুল আলম তার স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়ি। ৮ জানুয়ারি নাঙ্গলকোটে ট্রাক্টর চাপায় নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী বিপ্লব।
১৮ জানুয়ারি চান্দিনায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহত হন রিকশাচালক মাহাবুব মিয়া। ২২ জানুয়ারি চান্দিনার তীরচর এলাকায় বাসের ধাক্কায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে মারা যান মোহাম্মদ টুটুল ও মাহফুজ আলম। এদিন মহাসড়কের আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় গাড়িচাপায় মারা যান দুই জন। একই মহাসড়কের সদর দক্ষিণ এলাকায় ২৮ জানুয়ারি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ট্রাকচালক মো. রবিউল নিহত হন। ৩১ জানুয়ারি বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজারে ট্রাকের চাপায় নিহত হন এক মোটরসাইকেল আরোহী। এদিন নাঙ্গলকোটে ইটবাহী ট্রাক্টরের চাপায় প্রাণ হারায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ট্রাকের চাপায় নিহত হন এক অটোরিকশার চালক। এদিন বুড়িচং উপজেলার নাজিরা বাজার এলাকায় লরিচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ভাই নিহত হন। একই মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকায় ১২ ফেব্রুয়ারি গাড়ির চাপায় আরো একজন নিহত হন। এদিন চৌদ্দগ্রামের হাড়িসর্দার এলাকায় গাড়ির চাপায় মারা যান অজ্ঞাত এক যুবক। ১৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-সিলেট সড়কের দেবীদ্বারে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ফিরোজ মাহমুদ, একই সড়কের কংশনগর এলাকায় ১৬ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মারা যান অজ্ঞাতনামা এক যুবক।