প্র জ ন্মে র এ ক জ ন
বিশ্বজয়ী তেরেসা
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:০৫
চারপাশে হাজারো সুন্দরী। যেন মেলা বসেছে। কে হবে এদের মধ্য থেকে সেরাদের সেরা! এই প্রশ্নটি সামনে নিয়ে বসে আছেন লাখ লাখ দর্শক। বিচারকদের রায়ে নির্বাচিত হবেন সেরা সুন্দরী। এভাবেই নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়ে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় মিস আর্থ প্রতিযোগিতার। এবারের মিস আর্থ ২০১২ নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
প্রতি বছর মিস আর্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশটি হয় অনেক জাঁকজমকপূর্ণ। বিশ্বে তিন ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়—‘মিস ইউনিভার্স’, ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘মিস আর্থ’। এগুলোর মধ্যে ‘মিস আর্থ’ প্রতিযোগিতাকে ধরা হয় সর্বাধিক সুন্দরীদের মেলা হিসেবে। এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে হলে শুধু সুন্দরী হলেই চলবে না। সাথে থাকতে হবে তার নানা রকম গুণাবলি। বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টনেস, দক্ষতাসহ অনেক কিছু বিচারের মধ্য দিয়ে পার হতে হয় তাদের।
মিস আর্থ সুন্দরী প্রতিযোগিতার সূচনা হয় ইউনাইটেড নেশনস এনভাইরনমেন্ট প্রোগাম (ইউএনইপি)-এর হাত ধরে। এটা একটা পরিবেশবাদী সংস্থা। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু প্রাইভেট সেক্টর ও করপোরেশন সেক্টরে কাজ করে। গ্রিনপিস ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফাউন্ডেশনও তাদের হাত ধরে পথচলা শুরু করে। সম্প্রতি এই ফাউন্ডেশন, মিস আর্থ-২০১২ প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে। চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর এই প্রতিযোগিতায় সেরা সুন্দরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আর এবারের ‘মিস আর্থ’ খেতাবটি জিতে নেন চেক প্রজাতন্ত্রের সেরা সুন্দরী তেরেজা ফাজকসোভা। ফিলিপাইনের মুন্টিনলুপা শহরে এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডটি অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতার অন্য একটি ক্যাটাগরি, ‘মিস আর্থ ওয়াটার’ ঘোষণা করা হয় ভেনেজুয়েলার ওসম্যারিয়েলকে এবং পাশাপাশি ‘মিস আর্থ এয়ার’ ঘোষণা করা হয়, ২৪ বছর বয়সী জার্মান ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল স্টেফেন ডিয়ানকে। ‘মিস আর্থ ফায়ার’ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন, ব্রাজেলিয়ান মডেল মিনাস। তবে সব ক্যাটাগরি ছাপিয়ে সেরা পুরস্কারটি ছিনিয়ে নিয়েছেন তেরেজা। তেরেজার জন্ম ১৯৮৯ সালের মে মাসে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অন্যদের চেয়ে আলাদা। পড়াশোনায় সবসময় অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতেন। সেই সাথে অন্যান্য দিকেও তিনি ছিলেন এগিয়ে। খেলাধুলাও ছিল তার খুব পছন্দের। এখনও তিনি পছন্দ করেন ঘুরে বেড়াতে। সব কিছুতেই এগিয়ে থাকাটা যেন তার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনার পাঠ শেষ করেই ঢুকে পড়েন মডেলিংয়ের জগতে। বরাবরই ফ্যাশনপ্রিয় ছিলেন তিনি। ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০০৬’ খেতাবটি জিতে তার সাফল্যের পথে চলা শুরু হয়। এরপর ২০১০ সালে ‘মিস ট্যুরিজম কুইন অব দ্য ইয়ার ইন্টারন্যাশনাল’-এ সেকেন্ড রানারআপ হয়েছিলেন তিনি। আর এবার অর্থাত্, ২০১২ সালের ‘মিস আর্থ’ খেতাব জিতে নিয়েছেন তেরেসা। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বসেছিল এই মিস আর্থ প্রতিযোগিতার ১২তম আসর। সেখানে ২৩ বছর বয়সী এই চেক সুন্দরীর মাথায় বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দেন ‘মিস আর্থ ২০১১’-এর ইকুয়েডরের সুন্দরী ওলগা আলাভা। ‘মিস আর্থ’ মুকুট অর্জনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯১ জন প্রতিযোগী মূল রাউন্ডে অংশ নেন। এ ছাড়া চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে সেরা আটের মধ্যে ঠাঁই পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার টেমারিন জার্ডিন, রাশিয়ার নাটালিয়া পারেভারজেভা, নেপালের নাগমা শ্রেষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বোজোর্কুয়েজ। বিজয়ী হিসেবে তেরেসা ২০ হাজার ডলার পান সেই সাথে ডায়মন্ড এবং গোল্ডের জুয়েলারি। এ ছাড়াও আরও অসংখ্য উপহার দেওয়া হয় মিস আর্থ বিজয়ীকে।