ক র্পো রে ট প্র জ ন্ম
সফল একজন
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:০৫
মানুষ যেটা পছন্দ করে, তাকে তাই-ই করতে দেওয়া উচিত। পছন্দের কাজের মাধ্যমেই মানুষ তার সাফল্যকে সহজে করায়ত্ত করতে পারে। এই স্বীয় স্বাচ্ছন্দ্যবোধসম্পন্ন মানসিকতা ধারণ করেন আজকের সফল কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব সাদাত আদনান আহ্মদ। বর্তমানে তিনি ব্র্যাকের বিকাশ সেকশনের সেলস স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড কমপ্লাইনের হেড হিসেবে কর্মরত আছেন। লিখেছেন ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
সাদাত আদনান আহ্মদের জন্ম ঢাকাতেই। এরপর কিছুদিন চট্টগ্রামে কাটালেও ঢাকায় সেন্ট যোসেফ হাইস্কুল থেকে ১৯৯৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর নটরডেম কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএল’র বিবিএতে। বিবিএতে পড়াকালীন সময়ে ৭ জন বন্ধুর একটি সার্কেল গড়ে ওঠে। আদনান জানান যে, এই বন্ধু সার্কেলটিই তার জীবন গঠনে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কেননা এই বন্ধুরা সবাই নানা ক্ষেত্রে ছিল জ্ঞানের দিক দিয়ে দক্ষ। ফলে আড্ডা দিলেও নানা বিষয়ের জ্ঞানের আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকে নিজেকে ঋদ্ধ করতে পারতেন নানা দিক থেকে।
বন্ধুদের আড্ডাতেই তারা স্বপ্ন দেখতেন যে, সবাইকে একদিন যেকোনো কোম্পানির শীর্ষ পদে আসীন হতে হবে। সে লক্ষ্যেই তারা তাদের কর্মযজ্ঞ চালাতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় আদনান গ্রামীণফোণ, রবি, ওয়ারিদসহ নানা কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে থেকে সাফল্যের সাথে কর্ম সম্পাদন করেছেন। আদনান স্বীকার করেন বন্ধুদের সাথে আড্ডা এবং মতামত বিনিময়ের মাধ্যমেই তার বিশ্লেষণ ক্ষমতা বেড়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
আদনানের পরিবার থেকে সর্বদাই তাকে অনুপ্রেরণা দেওয়া হতো শেখার জন্য, গ্রেডসের জন্য তার উপর কোনো প্রেসার বা চাপ থাকত না। তাই আদনান স্বীকার করেন যে, ভালো ফলাফল করতেই হবে এমন চাপ না থাকায় তিনি নিজের মতো করে সবকিছু জানার চেষ্টা করেছেন। ফলাফল মধ্যমমানের হলেও তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন এই ভেবে যে, শেখার জায়গায় তিনি শতভাগ সফল। নতুন প্রজন্ম সম্পর্কে আশাবাদী হলেও তিনি জানান যে, আমাদের কোলোনিয়াল মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ছোটবেলা থেকেই সবাই যদি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকে তবে জাতির কর্মক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হবে। অভিভাবকদের তাই সন্তানের মেধা, ইচ্ছাকে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে, তাদের সন্তান কোন বিষয়ে কী করবে।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থ বিদ্যানির্ভর করে শিক্ষার্থীদের অনুধাবন, বিশ্লেষণমূক জ্ঞান বৃদ্ধিসহ বাস্তবভিত্তিক জীবনমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তা না হলে জাতির সার্বিক উন্নয়নে নতুন প্রজন্ম কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হবে। তাতে জাতি হিসেবে আমরা বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে দিনকে দিন পিছিয়ে পড়ব।