জমকালো কামিজ
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:১১
মা-খালারা বলতেই পারেন, ‘কী জানি বাপু, আমাদের সময়ে তো এমনটি ছিল না। আমরা পরেছি হাঁটুর নিচে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত নামানো কামিজ। তাও আবার বানাতাম দর্জিবাড়ি গিয়ে। আর সালোয়ার, কোনো রকমে সাদামাটা কাপড়ের দুই পাটে ১০ কি ২০ মিনিটের সেলাই! ঈদের ১৫-২০ দিন আগে দর্জিকে কামিজের ডিজাইন বুঝিয়ে দিতাম। এরপর আবার লম্বা সিরিয়াল!’ এসব কথা শুনলে এ প্রজন্মের যে কেউ হেসে উঠবেন। বলবেন, ‘সে দিন হয়েছে বাসি। আমরা তো যাই আর আসি। চোখের সামনে কত্ত পোশাকঘর। দুই দোকান ঘুরলেই পাই পছন্দের পোশাকটা।’ মা-খালা আর সন্তানদের তর্ক রাখছি। কারণ, সময় যতটা পেরিয়েছে, এর চেয়ে বেশি এগিয়েছে সালোয়ার-কামিজ। তাই তর্ক বৃথা। তরুণী থেকে মাঝবয়সী, সবার প্রিয় সালোয়ার-কামিজ। আর কুড়ি পেরোনো তরুণীদেরই এ নিয়ে উত্সাহ বেশি। যেকোনো পার্টিতে নিজেকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনের জন্য সালোয়ার-কামিজের বিকল্প আর কী হতে পারে!
কিছু মৌলিক বিষয়
জমকালো বলতে জামাজুড়ে স্রেফ সলমা-চুমকির ঝলকানি নয়, বরং বড় ভূমিকাটি কাপড়ের। অনুষ্ঠানে পরার সালোয়ার-কামিজের জন্য উপযোগী কাপড় সিল্ক, জর্জেট, ধুপিয়ান সিল্ক, মসলিন, টিস্যু; যেগুলো দেখতেই খুব জমকালো। তাতে অল্প সুতা, জরির এমব্রয়ডারি, পাথর, চুমকি, পুঁতির কারুকাজে কামিজগুলো হয়ে উঠবে নজরকাড়া। দিনের দাওয়াতে পরুন ফিকে গোলাপি, সাদা, পেস্ট, পিচ জাতীয় হালকা রংগুলো। রাতের পার্টির জন্য বেছে নিন কালো, বার্গেন্ডি, মেরুন, কফি, নীল, লাল প্রভৃতি গাঢ় রং।
ছাঁট-কাটে অনন্য
হালফ্যাশনের চওড়া ঘের, চাপা মুহুরির সালোয়ার ছাড়াও চুড়িদার, ধুতি, পেশওয়ারি সালোয়ার পার্টিতে পরতে পারেন অনায়াসে। ভারী সিল্ক, অ্যান্ডি সুতির কাপড়ে চুড়িদার সালোয়ার বেশ ভালো হয়। আর বড় ঘেরের সালোয়ারের ভাঁজগুলো ভালো ফোটে জর্জেট, পাতলা সিল্ক কাপড়ে। চলতি ফ্যাশনে ঢোলা সালোয়ারের সঙ্গে খুব চলছে খাটো কামিজে থ্রি-কোয়ার্টার হাতা। নতুন ধাঁচের আরেক ফ্যাশন চুড়িদার হাতার কামিজও ভালো লাগবে চুড়িদার সালোয়ারের সঙ্গে। হাইনেক, ভি-গলা, নৌকা ছাঁটের গলা (বোটনেক) কামিজে আনবে ভিন্ন মাত্রা। ওড়নাটি চওড়া হওয়াই ভালো।
আরও খুঁটিনাটি
টুকিটাকি কিছু বিষয় জেনে-বুঝে নিন কেমন সালোয়ার-কামিজে হয়ে উঠতে পারেন পার্টির মধ্যমণি। আজকাল খুব জনপ্রিয় হয়েছে সালোয়ার-কামিজে কাতান কাপড়ের ব্যবহার। সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্কের কামিজের হাতায়, গলায়, দুই পাশে, বুকে কাতান পাড়ের সমন্বয় দারুণ জমকালো লাগে। এর সঙ্গে নিতে পারেন চারদিকে কাতান পাড় দেওয়া মসলিনের ওড়না।
রঙে তো বটেই, দিনের আর রাতের পার্টির পোশাকে তফাত্টা হবে কাপড়েও। দিনের অনুষ্ঠানে পরুন ‘ম্যাট’ বা অনুজ্জ্বল কাপড় যেমন অ্যান্ডি সিল্ক। তাতে ঝকমকে সোনালি নয়, ভালো লাগবে ম্যাট সোনালি, তামাটে, অ্যান্টিক রঙের কাজ। ধুপিয়ান, বলাকা, রাজশাহী সিল্কের মতো জ্বলজ্বলে সিল্কগুলো আলো ঝলমলে রাতের পার্টির জন্য যথার্থ।
বেছে নিন আপনারটি
লম্বা-রোগা মেয়েদের হাঁটুর ঠিক মাঝ অবধি লম্বা কামিজ, চুড়িদার সালোয়ার বেশ মানিয়ে যাবে। একটু মোটা গড়নের মেয়েদের কামিজের ঝুল হওয়া চাই হাঁটু ছাড়ানো। পোশাকে স্ট্রাইপ এড়িয়ে পরুন একরঙা কাপড়। খাটো, হালকা-পাতলা তরুণীদের হাঁটুর ওপর অবধি ঝুলের কামিজ ও তার সঙ্গে উঁচু হিল জুতায় বেশ লম্বা লাগবে। তবে তারা বাদ দিন আড়াআড়ি (হরাইজন্টাল) স্ট্রাইপের কাপড়।
সাজগোজ
তারুণ্যের নিজস্ব সৌন্দর্যে এ বয়সের মেয়েরা এমনিতেই সুন্দর হয়ে ওঠে। পার্টিতে যেতে তাই সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে দরকার শুধু ফ্যাশনেবল একটা হেয়ার স্টাইল, সঙ্গে হালকা মুখসাজ। ঘরেই করতে পারেন এমন কয়েক রকম চুলসজ্জা আর একদম মৌলিক একটা মেকআপ। যেমন চুল না বেঁধে সোজা, ঝলমলে চুলের স্টাইল এখন তরুণীদের খুব পছন্দ। এ জন্য চুলটাকে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে হালকা ব্লো ড্রাই করে নিন আগে। হেয়ার সেটিং লোশন স্প্রে করুন। পুরো চুলে স্প্রে ঠিকমতো মাখাতে চুল ভালোভাবে আঁচড়ে নিলেই পেয়ে যাবেন ঝলমলে সোজা চুল। ব্লো-ড্রাই করে শাইনিং সেরাম (নানা রকম পাবেন বাজারে) দিন চুলে। তারপর আয়রন করে নিলে হয়ে গেল ঝকঝকে মসৃণ চুল। কারলিং আয়রন থাকলে চুলে স্পাইরাল স্টাইল করতে পারেন। পার্টির একদিন আগে শ্যাম্পু করতে হবে এ জন্য। ভলিউমাইজার শ্যাম্পু, কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ব্লো-ড্রাই করলে চুলে বেশ ভরাট ভাব আসবে। আবার বাঁধা চুলের স্টাইলে একটু অদলবদলে সাধারণ পনিটেইলই হতে পারে ভীষণ স্মার্ট স্টাইল। চুলগুলো পেছনে টেনে ব্যান্ড দিয়ে বাঁধুন। বাঁধা চুলের একাংশ নিয়ে ব্যান্ডের ওপর দিয়ে ঘুরিয়ে ব্যান্ডটাকে মুড়িয়ে নিন। মনে হবে চুল দিয়েই গোড়া কষে চুল বেঁধেছেন। পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে পরুন চিকন রিবন, নানা রকম ক্লিপ। সামনে চুল ব্যাংগস কাটা থাকলে সেটা কপালের ওপর ছড়িয়ে দিন। ক’টা ক্লিপ কাঁটার ব্যবহারে করে ফেলতে পারেন ফ্রেঞ্চ টুইস্ট। পেছনে টেনে চুল পুরোটা লম্বালম্বি পেঁচিয়ে নিন। পেঁচানো চুলটাকে ওপরে তুলে আবার কয়েক প্যাঁচে ঘুরিয়ে লম্বালম্বি রোলের মতো করুন। ক্লিপ, কাঁটা দিয়ে আটকে নিন।