পকেটমানি আমদানি

মানুষ যেদিন নিজের বোঝা নিজে টানতে শেখে, সেদিনই সে বড় হয়ে যায়। বড় হওয়ার প্রধান লক্ষণ হলো, নিজের খরচটা নিজেই সংস্থান করতে পারা। তরুণদের মাঝে এই পকেট খরচ জোগার করা নিয়ে প্রচলিত আছে নানা মজার কাহিনী। কেননা যুগের উচ্ছ্বাসে তাল মেলাতে গিয়ে মাঝে মাঝেই তরুণদের নানাভাবে হিমশিম খেতে হয়। তাই নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে এবং নিজেকে শাণিত করতে কর্মময় দীপ্তিতে পড়াশোনার পাশাপাশি আপনিও করতে পারেন কিছু খণ্ডকালীন কাজ, খুঁজে পেতে পারেন জীবনের সাফল্যের মানে। এর পাশাপাশি সঞ্চয় করা যেতে পারে আগামীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। পার্ট টাইম জব বা খণ্ডকালীন পেশা প্রথাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় প্রচলিত হলেও এশিয়ার দেশগুলোতে তেমন একটা প্রচলিত ছিল না। কিন্তু বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে তরুণরা এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। এইচএসসি কিংবা ও-লেভেল উত্তীর্ণ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তাদের অবসর সময় কাজে লাগিয়ে যেমন অর্জন করছেন অর্থ, তেমনি এর পাশাপাশি অর্জন করছেন অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব। আমাদের এবারের আলোচনায় রয়েছে তেমনই কিছু কাজের খোঁজখবর। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট :ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট মূলত স্মার্ট তরুণদের কাজ। এ জন্য প্রয়োজন যোগাযোগে দক্ষ ছেলেমেয়ে। আর এখানে কাজ বলতে থাকে বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রমোট করা, ক্যাম্পেইন করা কিংবা অনুষ্ঠানে সহায়তা করা ইত্যাদি। কাজগুলো হয় দিন, সপ্তাহ কিংবা মাসভিত্তিক। প্রতিদিন ৪০০ থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা যায় এই পেশায়। শুধু প্রয়োজন পড়ে যোগাযোগ দক্ষতা এবং শতভাগ একাগ্রতা। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে শেখার অনেক কিছু আছে—বিভিন্ন দেশের, এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে, ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা শেখা যায়, আরও শেখা যায় কর্পোরেট দুনিয়ার হালচাল। বিজ্ঞাপনী সংস্থা :অনেক সময় টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখে কখনও কী মনে হয়েছে এর চেয়ে কত ভালো বিজ্ঞাপনের আইডিয়া আমার কাছে আছে! হ্যাঁ, আপনার জন্যই আছে বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করার সুযোগ। কারণ, বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো অপেক্ষা করছে আপনার আইডিয়ার জন্যই। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ গড়া সম্ভব। একটি ভালো বিজ্ঞাপনের ধারণার মূল্য অনেক। পড়ালেখার পাশাপাশি সৃজনশীল যেকোনো ছাত্রছাত্রী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করতে পারেন। কপিরাইটার, ক্লায়েন্ট সার্ভিস কিংবা ক্রিয়েটিভ ধারণা প্রদানের জন্য এখানে সৃজনশীল তরুণ-তরুণীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুযোগ। প্রকাশনা সংস্থা :লেখার হাতটা বরাবরই ভালো আপনার। বাংলায় কোনো দিন সত্তরের নিচে পাননি। পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। একই সঙ্গে আয়ও করছেন বাংলা লিখেই। কিন্তু আপনি লেখক নন। তাহলে? কোথায় লেখেন আপনি? কোথায় আবার, প্রকাশনা সংস্থায়! অনেক যুগ থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয় পার্টটাইম জবের এটি অন্যতম। ফ্যাশন হাউস :ফ্যাশন হাউস বললেই মনে পড়ে অঞ্জন’স, আড়ং, নগরদোলা, অন্যমেলা কিংবা এক্সটেসির মতো হরেক কাপড়ে রাঙা দোকানগুলোর ছবি; পাশে কিছু তরুণ মুখও থাকে, যারা ক্রেতাকে সহায়তা করেন পণ্যটি বাছাই করতে কিংবা কিনতে। এদেরই বলা হয় বিক্রয় সহযোগী, আর এদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছাত্রছাত্রী। ধকল কম, কিন্তু হাতখরচটা পাওয়া যায় মনকে খুশি করে দেওয়ার মতো। আর কী চাই? ন্যূনতম এইচএসসি পাস হতে হবে আর লাগবে ভাষার দক্ষতা। যারা ইংরেজিতে কাঁচা, তাদের ভয় নেই। ফ্যাশন হাউসগুলোই আপনাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে নেবে। শুধু আপনার আত্মবিশ্বাসটা থাকলেই চলবে। কল সেন্টার :মুঠোফোন কোম্পানিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কল সেন্টারের মাধ্যমে বেশ কিছু স্বল্পকালীন চাকরির সুযোগ করে দিয়েছে। মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর কল সেন্টারে শিক্ষার্থীরাই বেশি কাজ করছেন। আর এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছেন ইংরেজি জানা, ভালো কণ্ঠ ও যোগাযোগে দক্ষ তরুণ-তরুণীরা। মুঠোফোন কোম্পানিগুলোতে স্বল্পকালীন চাকরি পেতে চোখ রাখতে পারেন তাদের ওয়েব সাইটগুলোতে। আর্টিকেল রাইটিং :যারা টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন না, তাদের জন্য এবার আর্টিকেল রাইটিং নিয়ে কিছু কথা রইল। আপনি ওয়েব ডিজাইন বা প্রোগ্রামিং বা গ্রাফিক্সের কাজ জানেন না। এগুলো শেখাও অনেক সময়ের ব্যাপার। আর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ খরচের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। আপনি যদি আপনার অবস্থানে থেকে কম প্রচেষ্টা ও সময় দিয়ে কিছু করতে চান তাহলে আর্টিকেল রাইটিং আপনার জন্য একটি পারফেক্ট পার্টটাইম জব হতে পারে, যদি ইংরেজি জ্ঞান মোটামুটি ভালো থাকে। এফএম রেডিও :বর্তমান তরুণদের কাছে এফএম রেডিও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। এবং তারুণ্যের মেধাবী হাতের ছোঁয়াই বাংলাদেশে এর যাত্রা শুরু। আর তাই আপনিও রেডিওগুলোতে আরজে, উপস্থাপক ও প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করতে পারেন, টাকা উপার্জনের পাশাপাশি আপনিও হয়ে উঠতে পারেন ক্যাম্পাস হিরোদের একজন। টিউশন ও কোচিং সেন্টার :ছাত্রছাত্রীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পার্টটাইম জব টিউশনি। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও পাঠ্য বিষয়কে মাথায় রেখে করতে হবে টিউশনি। পড়ানোর শ্রেণী ভেদে বেতন হয় ভিন্ন ভিন্ন। নিজস্ব যোগাযোগই টিউশনি পাওয়ার সহজ উপায়। সুপার শপ :আগোরা কিংবা মীনা বাজারের মতো সুপার শপগুলোতে শিক্ষার্থীরা কাজ করছেন অনেক দিন ধরে। হতে পারে সকালে ক্লাস শেষ করে বিকেলে ক্যাশ কাউন্টারে কাজ। সন্ধ্যার মুখে বাড়ি ফেরা। আর কী চাই? সারা দিন ছোটাছুটি, ক্লাস। সন্ধ্যাবেলা এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিয়ে পড়তে বসা, টিভি দেখা এসব করে মাস শেষে নিজের খরচটাও নিজে জোগার করতে পারেন। মিডিয়া :বর্তমান প্রেক্ষাপটে পার্টটাইম জবের আকর্ষণীয় ক্ষেত্র মিডিয়া। মিডিয়া বলতে বোঝায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। পত্রিকায় ফিচার লিখতে আগ্রহীরা বিভাগীয় সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করতে পারেন প্রদায়ক হিসেবে। এ ক্ষেত্রে থাকতে হবে লেখার ক্ষমতা, হতে হবে চৌকস ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিভার অধিকারী। স্যাটেলাইট টিভিতে সংবাদ উপস্থাপিকা হিসেবেও খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। সতর্কতা ++ খণ্ডকালীন চাকরির নামে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এ জন্য সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ++ গাড়ির গ্লাস, রাস্তার পাশের খুঁটিতে লাগানো খণ্ডকালীন চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে প্রভাবিত হবেন না। ++ যেকোনো ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ, প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করতে পারে। ++ চাকরির শুরুতে আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়। মডেল ফারহানা রেইন