প্র জ ন্মে র এ ক জ ন

সফল শিল্পী কিথ আরবান

অস্ট্রেলিয়ান কান্ট্রি সংগীত শিল্পী কিথ আরবানের জন্ম ১৯৬৭ সালের ২৬ অক্টোবর। জন্ম অস্ট্রেলিয়াতে হলেও তার বেড়ে ওঠা আমেরিকা ও কানাডাতে। আমেরিকাতে এসেই মূলত তার সংগীতের পথে যাত্রা শুরু হয়। অল্প বয়সেই শুরু করেন সংগীত চর্চা। খুব ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল সংগীতের প্রতি। একরকম ভালোবাসা অনুভব করতেন তিনি। এই ভালোবাসার টানেই তিনি সিএ (চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং) নিয়ে পড়াশোনা করেননি। মিউজিক্যাল স্কুল জয়েন করেন। প্রথমে তার পরিবারের থেকে তেমন সাড়া পাননি এই বিষয়ে। তার বাবা-মায়ের ইচ্ছে ছিল ছেলে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হবে। তবে পরবর্তী সময়ে তার প্রতিভায় তারা মুগ্ধ হয়ে যান। ব্যস, কিথ পুরোদমে শুরু করেন সংগীত চর্চা। পরিবারের সহায়তায় আজ তিনি একজন সফল আর্টিস্ট। আমেরিকাতে আসার আগে, অস্ট্রেলিয়াতে তিনি তার প্রথম অ্যালবাম বের করেন। নিজের নামে বের করা অ্যালবামটি বেশ জনপ্রিয়তা পায় মুক্তির সাথে সাথেই। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়ার টপ ফোর সিঙ্গেল গানের তালিকায়ও চলে আসে। এরপরই আমেরিকাতে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যান তিনি। পরের বছর পাড়ি জমান আমেরিকাতে। ১৯৯২ সাল, আমেরিকার মাটিতে পা রেখেই সেসময় গিটারিস্ট হিসেবে ‘দ্য র্যাঞ্চ’ নামের একটি ব্যান্ডে বাজানোর সুযোগ পান তিনি। তার প্রতিভা সেখানেও ছড়িয়ে যায়। তিনি সেই ব্যান্ডের সাথে, ‘ক্যাপিটাল রেকর্ডস’-এর একটি স্টুডিও অ্যালবাম বের করেন। সেই অ্যালবাম মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথে বিলবোর্ডের ২য় স্থানে চলে আসে। তার গানটি বেশ ভালোই নাম করে। এরপর তিনি আরও একটি সোলো পারফর্মেন্স করেন। ‘বাট ফর দ্য গ্রেস অব গড’ নামের এ গানটি আমেরিকান টপ চার্টে প্রথম স্থানে আসে। সেই সাথে তিনি ইউএস প্লাটিনাম খেতাব পান। ক্যাপিটাল রেকর্ডসের সাথে তখনও তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়নি। তিনি সেখান থেকে আরও একটি গান মুক্তি দেন। ‘সামবডি লাইক ইউ’ গানটি টপ চার্টে উঠে আসে খুব সহজেই। ‘গোল্ডেন রোড’ নামের অ্যালবামের গান এটি। ২০০২ সালে অ্যালবামটি মুক্তি পায়। তবে সেই অ্যালবামের আরও একটি গান, ‘ইউ উল থিংক অব মি’ গানটির জন্য গ্রামি পুরস্কার পান। সেই সাথে আবারও বিলবোর্ডে স্থান পায় তার গানটি। এরপর ২০০৪ সালে তিনি সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবামের খেতাব অর্জন করেন। সাথে সাথে পান প্লাটিনাম সার্টিফিকেট। এরপর ‘ওয়ান্স ইন এ লাইফটাইম’, ‘ইউ লুক গ্রেট ইন মাই শার্ট’ নামের গানগুলোর জন্য তাকে জনপ্রিয় শিল্পীর খেতাবটি দেওয়া হয়। সেই সাথে সংগীত জগত আরও একজন গুণী শিল্পী পেয়ে যায়। এ ছাড়াও তার মুক্তি পাওয়া অ্যালবাম, ‘ডিফাইং গ্রাভিটি’(২০০৯) ও ‘গেট ক্লোজার’ (২০১০) তাকে বসিয়ে দেয় আরও খ্যাতি ও সম্মানের আসনে। এভাবে একটু একটু করে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে তিনি পৌঁছে গেছেন খ্যাতি ও জনপ্রিয়তায় সেরাদের তালিকায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ন্যাশভিল সিম্ফোনি হারমোনি পুরস্কারে ভূষিত করা হয় কণ্ঠশিল্পী কিথ আরবানকে। কনটাক্ট মিউজিকের মাধ্যমে জানা গেছে, ওই সম্মান প্রাপ্তিকে অভাবনীয় বলে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কিথ। কিথ বলেন, ‘আমার স্বপ্ন পূরণ হলো। আমি বিশ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি, বেড়ে উঠেছি, আর স্বপ্ন দেখেছি ন্যাশভিলে ঠাঁই পাব একদিন। এমন অর্জনে তাই মনে হচ্ছে, অনেক দেরিতে হলেও স্বপ্ন পূরণ হলো আমার। বেশ সুখকর অনুভূতি এটি।’ কিথ বর্তমানে ন্যাশভিল শহরে বসবাস করছেন অভিনেত্রী স্ত্রী নিকোল কিডম্যানের সঙ্গে। তার ঠিক আগের দু’বছরে ওই পুরস্কারটি অর্জন করেছেন টেইলর সুইফট এবং তার আগে ক্যারি আন্ডারউড। এর সাথে যুক্ত হয় আমেরিকান আইডলের মতো জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো’র সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ, তবে তা গায়ক হিসেবে নয়, বিচারক হিসেবে। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় আমেরিকান আইডলের পরবর্তী সজনের বিচারকদের নাম। এই বিচারকমণ্ডলীর চতুর্থ সদস্যের জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান গায়ক কিথ আরবান। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক রায়ান সিরেস্ট সম্প্রতি বিচারকদের ছবিসহ এই তালিকা তার টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন। টিএমজির তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরেই জনপ্রিয় এই রিয়ালিটি শোটির পরবর্তী সিজনের বিচারক হিসেবে কে কে থাকছেন, তা নিয়ে চলছিল নানা গুজব। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে তাই এবারে প্রকাশ করা হলো চার বিচারকের নাম। তারা হলেন, র্যান্ডি জ্যাকসন, মারিয়া ক্যারি, নিকি মিনাজ এবং কিথ আরবান। এদের মধ্যে অনুষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসেই চুক্তি সই করেছেন কিথ। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে নতুন সিজনের আমেরিকান আইডল টিভিতে সম্প্রচার শুরু হবে।