খন্দকার ইশতিয়াক আহমদ

খন্দকার ইশতিয়াক আহমদ ডাক নাম :ইশতিয়াক জন্মতারিখ ও স্থান :২৯ মে কুমিল্লা মায়ের নাম :সাঈদা ইসলাম বাবার নাম :শফিকুল ইসলাম খন্দকার প্রথম স্কুল :মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রিয় মানুষ :আমার মা প্রিয় উক্তি :চেষ্টা থাকলে সফলতা আসবেই। প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :বন্ধুদের আড্ডায়, ঘুরে বেড়িয়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :আত্মতুষ্টি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্য অর্জন। ‘মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি আর নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর আমি গ্র্যাজুয়েশন করেছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ থেকে। চাকরি জীবনের শুরু রেকিট বেনকিজারে। এরপর মিডিয়াতে কাজ করার জন্য গ্রুপ-এম-এ জয়েন করি। পরবর্তীতে নেসেল বাংলাদেশ লিমিটেডে যোগ দিই। বর্তমানে আমি নেসেল বাংলাদেশের মিডিয়া এবং কনজ্যুমার ইনসাইট ফাংশনের দায়িত্বে আছি।’ নিজের সফলতার গল্পটা এভাবেই শুরু করলেন এই প্রজন্মের মেধাবী জনসংযোগ কর্মকর্তা খন্দকার ইশতিয়াক আহমদ। কেন এই পেশা? জানতে চেয়েছিলাম ইশতিয়াকের কাছে। জানালেন, ব্যবসায় প্রশাসনে পড়ার সময় থেকেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কম্যুনিকেশন তিনি খুব আগ্রহ নিয়ে লক্ষ করতেন। বিশেষ করে লোকাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপনের নতুন উপস্থাপনা এবং নানা রকম মিডিয়া ইনোভেশন তাকে নাড়া দিত। গ্র্যাজুয়েশনের সময় মিডিয়া এজেন্সিতে পার্ট টাইম কাজের সুবাদে মিডিয়া জগত্ বেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় তার, যা পরবর্তীতে এই মাধ্যমে স্থায়ীভাবে কাজ করতে উত্সাহিত করেছে তাকে। ইশতিয়াক মনে করেন, পেশা হিসেবে মিডিয়ার কাজ অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময়। যেহেতু মিডিয়াতে অনেক ইনোভেশন এবং নতুন আইডিয়া এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ আছে, তিনি খুব আগ্রহ নিয়েই এখানে কাজ করছেন। তা ছাড়া মিডিয়ায় কর্পোরেট নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও অনেক, যা কাজকে বেশ ইন্টারেস্টিং করে দেয়। শুধু স্বাচ্ছন্দ্যময়ই নয়, পেশা হিসেবেও দিনকে দিন এর চাহিদা বাড়ছে। ইশতিয়াক বলেন, ‘আমাদের দেশে পেশা হিসেবে মিডিয়া এখনও ব্যাপক পরিচিত বা সমাদৃত নয় বলে আমি মনে করি। তা ছাড়া বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া বিষয়টি পাঠ্যক্রমে অনুপস্থিত। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়াদের মিডিয়ার কাজ সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব থাকে। তবে এখন বড় মিডিয়া এজেন্সিগুলো ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্টে কিছুটা দৃষ্টিপাত করছে, যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রে অনেকেই কাজ করতে আগ্রহী হবেন বলে আমার বিশ্বাস।’ সৃজনশীল এই মানুষটার মতে, এই পেশায় নতুনদের কাজ খুবই সম্ভাবনাময়। এখনকার মিডিয়ার ছেলেমেয়েরা অকপটে নানা রকম এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে যা কয়েক বছর আগেও হয়তো বাংলাদেশি মিডিয়াতে কল্পনা করা যেত না। বিভিন্ন মাধ্যমে মিডিয়া স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিংয়ে বেশ প্রশংসনীয় কাজ দেখা যাচ্ছে আজকাল। নতুনদের কাজের সম্পর্কে এক কথায় তিনি বলেন যে, ‘বেটার দ্যান বিফোর।’ নতুনদের জন্য পরামর্শ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দিনের শেষে মিডিয়ার পারফর্মেন্স বিচার করা হয় ইমপ্যাক্ট দিয়ে। এখনকার ক্লাটার্ড মিডিয়াতে নিজের ব্র্যান্ডের কম্যুনিকেশন তুলে ধরতে চাইলে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং এবং প্রপার এক্সিকিউশনের বিকল্প নেই। তাই গত্বাঁধা প্ল্যানিং ধারণার বাইরে বেরিয়ে এসে সব সময় নতুন কিছু করার স্পৃহা থাকা উচিত।’ ইশতিয়াকের সাথে কথার শেষ পর্যায়ে জানতে চেয়েছিলাম তার শৈশব নিয়ে, আইডিয়াল স্কুল আর নটরডেম কলেজের বন্ধুদের সাথে দুরন্তপনায় কেটেছে তার শৈশব আর কৈশোর। তার দুই বোন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী নায়লা সুলতানাও একজন মিডিয়া প্রফেশনাল। জানালেন তার আজকের অবস্থানের পেছনে সকল অবদান তার পরিবার, বিশেষ করে তার মা সাঈদা ইসলামের। তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ কর্পোরেট মিডিয়া কম্যুনিকেশনকে বাংলাদেশে বাস্তবরূপ দেওয়া। সেই স্বপ্নের হাতছানি বাস্তব হয়ে ধরা দিক, এমনটাই প্রত্যাশা।