মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ

মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ডাকনাম :মেজবাহ জন্মতারিখ ও স্থান :১১ অগাস্ট, ময়মনসিংহ মায়ের নাম :হোসনে আরা বেগম বাবার নাম :শামসুদ্দীন আহমেদ প্রথম স্কুল :শেরে বাংলা হাই স্কুল প্রিয় মানুষ :আমার স্ত্রী প্রিয় উক্তি :মানুষ মানুষের জন্য প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :সন্তানদের সময় দিয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা ও পরিশ্রম। প্রতিভা বলে কিছু নেই; চেষ্টা করে গেলে প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করা যায়! মনীষীদের এই উক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য সেই বিষয়টা আপেক্ষিক। তবুও আমাদের চারপাশে এমন কিছু সফল মানুষ আছেন, যারা সংগ্রাম করে নিজেদের আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। তাদের পথটা বন্ধুর ছিল, অনেক চেষ্টা আর প্রাণপণ মনের জোর রচনা করেছে তাদের বিজয়ের গল্প। নিজেদের তারা সফল বলতে নারাজ। শুধু এটা ভেবেই তারা সন্তুষ্ট যে, অনেক বিপত্তি পেরিয়ে আজকে সঠিক পথে চলেছেন, বহুদূর পথ ধরে হেঁটে এসেও তারা স্বপ্ন দেখেন অনেক সামনে এগিয়ে যাওয়ার, আমাদের আজকের প্রজন্মের এমনই একজন মানুষ মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, দেশের সেরা সিনেপ্লেক্স, বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সের মার্কেটিং ও মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার তিনি। উত্তরবঙ্গের ছোট্ট শহর সৈয়দপুর, সেখানেই আর দশটা স্বাভাবিক মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো আটপৌঢ়ে ঘরে বেড়ে ওঠা তার। স্থানীয় স্কুল-কলেজের পড়াশোনার সময়েই আগ্রহ তৈরি হয় মিডিয়ার দিকে। সময়টা আরও অনেক আগে, তখন রুপালি পর্দা মানে আকর্ষণীয় একটা বিষয় সবার কাছে। যাই হোক, মেজবাহ’র ঝোঁকটা মনের মাঝে গেঁথে থাকল মিডিয়ার উপর। অনেক আশা বুকে বেঁধে এলেন ঢাকা শহরে, সেই সময়ে ঢাকায় নতুন আসা ছেলেটা খুব আনন্দে দিন কাটাননি। শুরুতে করেছিলেন অ্যাডফার্মের কাজ, মিডিয়ামিক্স প্রতিষ্ঠানটিতেও ছিলেন অনেকদিন। এরপর ২০০৪ সালে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সের শুরু থেকেই এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে পৌঁছেছেন আজকের অবস্থানে। নতুন প্রজন্মের জন্য এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যেই ছেলেটা ঢাকা শহরে এসে একদিন একাকী ঘুরে বেড়িয়েছিল স্বপ্ন ছুঁবে বলে, আজ সেই লাল নীল শহরের লাখো মানুষের প্রিয় বিনোদনের স্থানটির একজন নির্বাহী তিনি। মানুষের কাছে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রিয় সিনেপ্লেক্সের খবর পৌঁছে যায় তার হাত ধরে। মেজবাহ বললেন, ‘এই প্রজন্মের মানুষ প্রচার-প্রচারণা সম্পর্কে অনেক সচেতন, যে যেই কাজটাই করুক সেটা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানোটা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এখানে কাজ করতে এলে সব পেশার সব ধরনের মানুষের সাথে ওঠাবসার সুযোগ হয়, এটার মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগও অনেক বাড়ে।’ আর এই কারণেই মিডিয়া তথা গণযোগাযোগ নিয়ে কাজ করতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। সেই ছোট থেকেই সব কাজে মেজবাহ বাবা-মায়ের খুব উত্সাহ পেয়েছেন। মা এখন আর নেই, চলে গেছেন না ফেরার দেশে, সেখান থেকেই হয়তো সন্তানের সুখের ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করে চলেছেন! এখন তার পরিবারে স্ত্রী আর দুই সন্তান। স্ত্রী শারমিন ফেরদৌস রিমা সফল গৃহিণী, তাদের দুই সন্তান ফারহিন আহমেদ আর সেহরিন আহমেদ এখন যেন কথাবলা পুতুল। ঢাকার আজিমপুরে তাদের ছোট্ট সংসার। মেজবাহ স্বপ্ন দেখেন সুন্দর একটা আগামীর, যেখানে মিডিয়া আর কর্পোরেট এই দুইটা বিষয় এক মোহনায় মিলিত হয়েছে, সেই জায়গাটিতে তার অবস্থান তিনি সুদৃঢ় করতে চান, ছুঁয়ে যেতে চান সেদিন রাস্তায় নিরুদ্দেশ হেঁটে হেঁটে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেগুলোকে।