‘মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি ও ক্রিয়েটিভ আর্টস’ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

সময়ের সাথে সাথে এখন মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার সর্বত্রই। সংবাদপত্রের পাতা থেকে রেডিও, টিভি, কম্পিউটার গেম, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, চলচিত্র ও স্পেশাল ইফেক্ট—সব জায়গায় এখন মাল্টিমিডিয়া আর অ্যানিমেশনের ব্যবহার। এই শাখাগুলোয় এখন বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার মানুষ কাজ করছে। বিশ্বের সাথে সাথে এখন আমাদের দেশেও মাল্টিমিডিয়া আর অ্যানিমেশনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এখন দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ২৫টি ছাড়িয়ে গেছে। আর সেইসাথে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্যই মাল্টিমিডিয়া আর অ্যানিমেশনের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এখন আমাদের দেশের চলচ্চিত্রগুলোতেও অ্যানিমেশন এবং গ্রাফিক্সের ব্যবহার শুরু হয়েছে। ফলে এসব বিষয়ে এখন ক্যারিয়ার গড়ার বড় একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মিডিয়া জগতে যারা প্রতিষ্ঠিত তাদের নিজস্ব অবস্থান তৈরিতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। কারণ এদেশে কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। শুরুতেই স্ব-শিক্ষিতরাই মাল্টিমিডিয়া শিল্পের সুচনা করলেও এখন এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। মাল্টিমিডিয়া ইন্ডাষ্ট্রির সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্ম পরিবেশ ও এখন অত্যন্ত চমত্কার এবং কাজের সুযোগও অনেক বেশী। এর মধ্যে আছে বিজ্ঞাপনী সংস্থা, পোষ্ট প্রোডাকশন হাউজ, টিভি চ্যানেল সমূহ, ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রি, আর্কিটেকচারাল ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন ফার্ম, এনিমেশন এবং কার্টুন ইন্ডাষ্ট্রি, সিমুলেশন ইন্ডাষ্ট্রি এবং সফটওয়্যার ফার্ম ইত্যাদি। আমাদের দেশে মাল্টিমিডিয়া বা এনিমেশন এর মত বিষয় সমূহ সরাসরি শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে অন্তর্ভূক্ত না থাকায় গতানুগতিক কিছু বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া করতে হয়। আমাদের বর্তমান মাল্টিমিডিয়া শিল্পে যারা কাজ করেন তারা সিনিয়রদের কাছে থেকে কিছু প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং বাকীটা হাতে-কলমে কাজ করতে করতে শিখছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে এই সেক্টরে পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে হলে সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি প্রয়োজন হবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। ভবিষ্যত্ মাল্টিমিডিয়া গ্রাজুয়েটরা এই শিল্প সংশ্লিষ্ট যে সকল ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ থাকবে তার মধ্যে থ্রী ডি মডেলিং, টু ডিএবং থ্রী ডি এনিমেশন, মোশান গ্রাফিক্স, মাল্টিমিডিয়া নির্মাতা, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, ভিডিও এডিটর, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ডেভেলাপার, স্পেশাল ইফেক্ট ডেভেলাপার এবং মাল্টিমিডিয়া কনসালটেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, লেভেল ডিজাইনার (গেইম), টু ডি/থ্রী ডি আর্টিষ্ট, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নির্মাতা, এনিমেটেড লার্নিং টুল ডেভেলাপার এবং মিডিয়া বিষয়ক লেখক ইত্যাদি। এতদিন ধরে এই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাইরে গিয়ে পড়ালেখা করতে হত। আর তাতে খরচও ছিল প্রচুর। তবে সম্ভাবনাময় এই খাতে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদন নিয়ে স্প্রিং সেমিস্টার ২০১২ থেকে মান্টিমিডিয়া টেকনোলজি ও ক্রিয়েটিভ আর্টস বিষয়ে চার বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স চালু করেছে। ফোন :০১৭১৩৪৯৩০৫০, ০১৭১৩৪৯৩২৫১।