পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কম্পিউটার আসছে পাঁচ বছরেই
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৩
প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম প্রবীণ প্রতিষ্ঠানটির নাম আইবিএম। শতবর্ষের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি বিশ্বের ইতিহাসে অবদান নেহায়েত কম নয়। বিখ্যাত সব সুপার কম্পিউটার তৈরি হয়েছে এই আইবিএম-এর গবেষকদের দ্বারা। আইবিএম পিসিও এক সময়ে রাজত্ব করেছে বিশ্বজুড়ে। বর্তমানে অবশ্য আর গ্রাহক পর্যায়ের জন্য কম্পিউটিং ডিভাইস তৈরিতে যুক্ত নেই তারা। সুপার কম্পিউটার এবং কম্পিউটিং নিয়ে বড় বড় সব গবেষণার সাথে এখন সংশ্লিষ্ট এই প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতি বছরেই আইবিএম ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং কম্পিউটিং নিয়ে এক ধরনের ভবিষ্যতবাণী করে থাকে। সময়ের বিচারে আইবিএম-এর করা ভবিষ্যতবাণীগুলো তেমন একটা মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়নি। বরং সময়ের সাথে সাথে আইবিএম যে অনুমানগুলো করেছে, সেগুলোই বাস্তবায়িত হয়েছে। চলতি বছরে এসেও আইবিএম তাদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে একটি ভবিষ্যতবাণী করেছে। তবে আপাত দৃষ্টিতে এখনও পর্যন্ত এই ভবিষ্যতবাণী সফল হবে না বলে অনেকেই ধারণা করতে পারেন। কেননা, আইবিএম-এর এই ভবিষ্যতবাণীতে রয়েছে এমন একটি কম্পিটারের কথা, যাতে থাকবে মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সবগুলো সুবিধা। অর্থাত্, এই কম্পিউটারটি স্পর্শের অনুভূতি উপভোগ করতে পারবে, দেখতে পারবে, শুনতে পারবে, স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে এবং গন্ধ নিতে পারবে! আর এটি তৈরি হবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই।
হ্যাঁ, প্রযুক্তির কল্যাণে এখন অনেক কল্পনাই পরিণত হয়েছে বাস্তবে। তবে মানুষের মতো পাঁচ ইন্দ্রিয়ের কম্পিউটার তৈরির বিষয়টি এখনও বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এসব কল্পকাহিনীর অনেক কিছুই বাস্তবে পরিণত হবে বলেই ধারণা করছে আইবিএম। আগামী পাঁচ বছরে যেসব প্রযুক্তি চমকিত করবে মানুষকে, সেসব প্রযুক্তির তালিকা করতে গিয়ে কম্পিউটারে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সংযোজনের বিষয়টিকেই তুলে ধরেছেন তারা।
আইবিএম-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি কম্পিউটার তার চারপাশকে বুঝতে শিখবে। একজন মানুষ যেভাবে তার চারপাশকে অনুভব করতে পারে, বুঝতে পারে; ঠিক সেভাবেই একটি কম্পিউটারও পারবে তার চারপাশকে অনুভব করতে। এই ধরনের প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘কগনিটিভ কম্পিউটিং’। এই প্রযুক্তি একটি যন্ত্রকে মানুষের মতো করেই অনুভবের সুযোগ তৈরি করে দেয়। অর্থাত্, যেকোনো কম্পিউটার যখন তার ক্যামেরার মাধ্যমে একটি পেইন্টিংয়ের ছবি ধারণ করে, সে মূলত সেই ছবির কোন পিক্সেলে কোন রঙ রয়েছে, কোন ধরনের কাঠামো আঁঁকা হয়েছে, সেসব তথ্যই সংরক্ষণ করতে সক্ষম। তবে কগনিটিভ কম্পিউটিং প্রযুক্তির একটি কম্পিউটার কেবল এসব বিন্দু, রঙ, কাঠামোর তথ্য নয়, বরং যেভাবে একজন মানুষ একটি পেইন্টিংকে দেখে সেটির সৌন্দর্য উপভোগ করে, ঠিক সেই রকম করেই দেখবে পেইন্টিংটি।
নতুন প্রযুক্তি বিপ্লব
কগনিটিভ কম্পিউটিং বাস্তবে পরিণত হলে তা প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য নতুন এক বিপ্লব নিয়ে আসবে। স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ডিভাইসগুলোর কল্যাণে কম্পিউটিং ডিভাইস যেভাবে মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে কগনিটিভ কম্পিউটিংয়ের সুবিধা যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে বিশ্বব্যাপী। এ প্রসঙ্গে আইবিএম-এর উদ্ভাবন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বার্নি মেয়ারসন ম্যাশাবলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ‘এটি মূলত কম্পিউটিংকে একদম ভিন্নভাবে দেখার মতো ভাবনা। তথ্যকে আপনি কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা বদলে দিতে হবে এর জন্য। আপনি একটি ছবি তুলে সেটি সংরক্ষণই কেবল করেন না, সেটি অনুধাবনও করেন। আর ছবিকে কম্পিউটারও যে কেবল বিট ও বাইটের সমষ্টি হিসেবেই দেখতে থাকবে, সেই ভাবনাকেও বদলে দিতে হবে। কগনিটিভ কম্পিউটিং তাই নতুন এক ধারার কম্পিউটিং অভিজ্ঞতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ একটি কম্পিউটার কেবল রান করে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু কাজ করে। কিন্তু একটি কগনিটিভ কম্পিউটিং কেবল রানই করে না, সে তার চারপাশকে অনুভবের মধ্যে নিয়ে আসে।’
ইন্দ্রিয় সক্ষমতাই বুদ্ধিমত্তা নয়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যন্ত্রে সঞ্চার নিয়ে গবেষণা কম হয়নি। গবেষণা প্রতিনিয়তই চলছে। কগনিটিভ কম্পিউটিংয়ে কম্পিউটার ইন্দ্রিয় ক্ষমতা পেলেও তাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে গুলিয়ে না ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন আইবিএম গবেষকরা। কগনিটিভ কম্পিউটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থাকবে, এমনটা আশা করতে নিষেধ করেছেন তারা। বরং এটি মানুষকে তার চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তারা।