স্বপ্ন

নীল দিগন্তে পেশাদারি জীবন

পেশাদারিত্বের দিক দিয়ে পুরো বিশ্বজুড়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়াররা। যে কারণে একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির আমন্ত্রণের মধ্য হতে নিজের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠান নিজেই নির্বাচন করে থাকেন। আর এই শিল্পে পদের তুলনায় দক্ষ অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারদের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষাজীবনের শেষ বর্ষে অধ্যয়নরতদেরও চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার পাশাপাশি উচ্চ আয়ের পেশাদার জীবন শুরু করার সুযোগ পায়। এরই উদাহরণ হিসেবে প্রথমে বলা যায় এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার বশির আহমেদের নাম। তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে টাইগার এয়ারওয়েজে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিরিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই ধারায় সফলতার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন আরাফাত রোমিও। এইচএসসি পাস করে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে বর্তমানে তিনি আমেরিকার উইসিটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন। তবে লক্ষণীয় হলো আমাদের দেশে এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ালেখা সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার বা এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে এমন একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি যিনি উড়োজাহাজের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে এরোপ্লেন উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটরা সব ধরনের তথ্যপত্র নিয়ে থাকেন তাদের কাছ থেকে। প্লেনের যাত্রী এবং পাইলটদের জীবন এবং তাদের নিরাপদে পৌঁছানোর অনেক কিছু নির্ভর করে এয়ারক্রাফটমেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের উপর। এই প্রফেশনালদের দায়িত্ব এবং বেতনের ধরন আন্তর্জাতিক মানের। চাকরির শুরুতেই একজন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কয়েক লাখ টাকা বেতন পায়। সেই সাথে থাকে অনেক আকর্ষণীয় সুযোগ। ক্রমে এই বেতন এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পায়। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়রিংয়ে পড়তে এইচএসসি অথবা এ-লেভেল পাস করা থাকতে হয়। সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারী পায় আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট। হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অনেক দেশের স্বনামধন্য ইউনিভার্সিটিতে সহজেই চূড়ান্ত বর্ষে ভর্তি হয়ে বিইজি ইন অ্যারোস্পেসের সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারে। এই কোর্সের শিক্ষা পদ্ধতি অনেক সহজ। যুক্তরাষ্ট্রের এডেক্সেল বোর্ডের আওতায় শিক্ষার্থী এই ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে চাকরির সুযোগ নিতে পারে। এ ছাড়া এই কোর্সে বিশ্বের ১৭৩টি দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা চাইলেই ইংল্যান্ডের কভেন্টি, কিংসস্টোন, স্যালফোর্ড, ক্রেইনফিল্ড প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের যেকোনো দেশের এডেক্সেল অনুমোদিত ইউনিভার্সিটিতে সহজে চূড়ান্ত বর্ষে ভর্তি হতে পারে। আর সরকারি-বেসরকারি দুটি ক্ষেত্রেই রয়েছে এই পেশায় চাকরির বিশেষ সুযোগ। এ দেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাদার ডিগ্রি পরিচালনার শীর্ষ ও সফল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্যাটেক। এদের কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে উন্নত বিশ্বে ভিসা পেয়ে পড়ালেখাসহ চাকরি করছেন। এদের রয়েছে লাইফ এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে প্র্যাকটিক্যালের সুযোগ।