পতঙ্গ

ফড়িং :কান যার হাঁটুতে

ওড়ার ভঙ্গি, অদ্ভুত চেহারা আর বৈচিত্র্যের জন্য ফড়িং একটি জনপ্রিয় পতঙ্গ। ওর ভাবভঙ্গির সঙ্গে হেলিকপ্টারের অনেক মিল আছে। ফড়িং তার দুইজোড়া পাখার প্রত্যেক জোড়াকে আলাদাভাবে নাড়াতে পারে। এই ডানাজোড়ার কল্যাণেই ওরা ওড়ার সময় গতিপথ হঠাত্ পরিবর্তন করে ডানে বাঁয়ে চলে যায়। ওদের চলার বেগ কখনো কখনো ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে যায়। শিকার ধরা কিংবা আত্মরক্ষার জন্য ওদের শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিশেষভাবে কাজ করে। ফড়িংয়ের দৃষ্টিশক্তি খুব ভালো। ওদের চোখ মাথার প্রায় অর্ধেকের বেশি জায়গা জুড়ে থাকে। ফড়িংয়ের চোখে আছে প্রায় ২০ হাজার পুঞ্জাক্ষি। এসবের সাহায্যে সামান্য নড়াচড়াও ওদের দৃষ্টি এড়ায় না। মানুষের জন্য বিরক্তিকর মশা ওদের সবচেয়ে প্রিয় খাবার ।

সবচেয়ে বড় ফড়িংয়ের দেখা মিলবে উপকূলীয় অঞ্চলে। বড়গুলোর পাখার দৈর্ঘ্য ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। বিজ্ঞানীদের অভিমত—ফড়িংয়ের আবির্ভাব এখন থেকে ৩০ কোটি বছর আগে। পৃথিবীজুড়ে এখন পর্যন্ত ৬০০ প্রজাতির ফড়িংয়ের দেখা মিলেছে। মজার ব্যাপার হলো, ৬টি পা থাকা সত্ত্বেও ফড়িং হাঁটতে পারে না। মাটিতে ওরা লাফিয়ে, ডানায় ভর করে চলে। ওদের শ্রবণযন্ত্র বা কানও রয়েছে পায়ের মাঝামাঝি অর্থাত্ হাঁটুতে।