ঝিনাইগাতীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কয়েক হাজার গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর ঝর্ণাসহ নানা স্থানের জলাশয়ের পানি পান করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে লোকজন।

এসব গ্রামগুলো হচ্ছে, উপজেলার ঝিনাইগাতী সদর, ডেফলাই, ফাকরাবাদ, ভারুয়া, মরিয়ম নগর, জারুলতলা, কুসাইকুড়া, তাওয়াকুচা, পানবর, গুরুচরণ, দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, গান্ধিগাঁও, বাকাকুড়া, হালচাটী ও নওকুচি।

এসব এলাকার মাটির নিচে প্রচুর পাথর থাকায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। নওকুচি গ্রামের আদিবাসী নেতা ফছেন সাংমা বলেন, ‘রিংওয়েল নলকূল স্থাপন করে পানি উত্তোলন করতে হয়। আর এতে ব্যয় হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা।’

তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী আদিবাসী অধ্যুষিত পাহাড়ি গ্রামবাসীদের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ছোট গজনী গ্রামের আদিবাসী নেতা ফিলিসন সাংমাসহ আরো অনেকে জানান, সরকার ও এনজিওর মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বেশ কিছু রিংওয়েল নলকূপ স্থাপন করা হলেও নলকূপগুলো এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।’

নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ূব আলী ফর্সা বলেন, ‘জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তার ইউনিয়নে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ১শ’ ২০ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ফলে ঝিনাইগাতী উপজেলায় পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। চলতি বছর ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আরো নিচে নেমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।’

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের দৃশ্য। মাটির কূপ, ঝর্ণাসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবার অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে গৃহস্থালির কাজ ও খাবার পানির ব্যবস্থা করছেন। এসব পানি পান করে ডায়ারিয়াসহ নানা ধরণের পানি বাহীত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ গ্রামবাসীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হাসান শাহীন জানান, প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫-২০জন করে পানিবাহিত রোগী ভর্তি হচ্ছে। প্রতি বছর এ সময়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। সরকারীভাবে যে পরিমাণে গভীর নলকূপ বরাদ্দ আসে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

কাংশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘তার ইউনিয়নে ৮০ভাগ নলকুপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পাহাড়ি গ্রামগুলোতে মাটির নিচে পাথর থাকায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।’

গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু ও হাতিবান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নরুল আমিন দোলা জানান, তাদের ইউনিয়নে ৮০ভাগ নলকুপ অকেজো হয়ে পড়েছে। কোন কোন নলকূপে পানি পাওয়া গেলেও তা খাবার উপযোগী নয়। ইউপি চেয়ারম্যানদের অভিযোগ সরকারি ভাবে প্রতি বছর যেসব গভীর নলকুপ বরাদ্দ আসে তা বিতরণ করা সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে। ফলে দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে জুটেনা এসব সরকারি গভীর নলকূপ।

আরও পড়ুনঃ শ্যামনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

শেরপুরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে, পানি সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৩০টি গভীর নলকুপ স্থাপনের কাজ চলছে। স্থাপন কাজ শেষ হলে পানি সংকট সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু