ফেসবুক-টুইটারে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে

সময়ের সাথে সাথে এখন ফেসবুক, টুইটার বা একই রকমের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো পরিণত হয়েছে অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গে। এখন বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত। আর বিপুল পরিমাণ এই মানুষের মধ্যে প্রায় সকলেই ব্যবহার করে থাকেন নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এর মধ্যে কেবল ফেসবুকেই রয়েছে বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ। এ ছাড়া টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট কিংবা চীন বা অন্যান্য দেশের স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য সাইটেও রয়েছে কোটি কোটি মানুষ। সামাজিক যোগাযোগের সাইট এখন আর কেবল মানুষের মানুষের সাথে সাধারণ যোগাযোগের পর্যায়ে নেই। বরং এর ব্যবহার এখন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এক রকম বিকল্প সংবাদ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কিংবা সারাবিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রমাণ মেলে সামাজিক যোগাযোগের এসব সাইটের বিপুল জনপ্রিয়তার। তবে এর ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নেতিবাচক দিকও। সেই দিকটাই তুলে ধরেছে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি প্রতিবেদন। তারা তাদের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত চার বছরে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো ব্যবহার করে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে প্রায় আট গুণ। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের ২৯টি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে চলতি ২০১২ সালে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সংক্রান্ত প্রায় পাঁচ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে সাড়ে ছয়শ ব্যক্তিকে সাজার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তথ্যের স্বাধীনতার আইনের আওতায় প্রকাশিত এই তথ্যকে নিজেদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন যুক্তরাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান। তিনি জানান, ২০০৮ সালে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো থেকে অপরাধের অভিযোগ জমা পড়ে মাত্র সাড়ে পাঁচশ। এর মধ্যে মাত্র ৪৬ জন ব্যক্তি সাজা লাভ করে। যুক্তরাজ্যের অ্যাসোসিয়েশন অব চিফ পুলিশ অফিসার্স-এর চিফ কনস্টেবল অ্যান্ডি ট্রটার জানিয়েছেন, ‘মানুষের সব মাধ্যম ব্যবহার করেই যোগাযোগ রক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে এসব মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধের প্রবণতাও দিন দিন বাড়ছে। তাই এসব বিষয়ে এখন সকলেরই মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।’ তবে এই প্রবণতাকেও সামাজিক অনুষঙ্গ হিসেবেই মনে করছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। তাই অন্যান্য অপরাধের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে এই ধরনের অপরাধকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।