সুইজারল্যান্ডের আইনের অবস্থান হবে আন্তর্জাতিক আইন এবং যেকোনো চুক্তির ঊর্ধ্বে— এ রকম একটি প্রস্তাব গণভোটে নাকচ করে দিয়েছে সুইস নাগরিকরা। দেশটির জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা এসআরএফ যে আংশিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, ৬৭ শতাংশ ভোটার ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
দেশটির পার্লামেন্টের বৃহত্ রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) এই গণভোটের প্রস্তাব এনেছিল। কিন্তু এই গণভোটটি বড় ধরনের পরাজয় বলে মনে করছেন ডানপন্থি দলটির নেতা ও দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিন আমাদ্রুজ। সমালোচকরা বলছেন, বিশ্বে দেশটির মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এই গণভোট। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে আনা, অভিবাসন সীমিত করা, বিদেশি অপরাধীদের আটক করার মতো বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আয়োজন করা গণভোটে এর আগে সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ওই প্রস্তাবটি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হতাশা তৈরি করেছিল, যা হয়তো ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলতে পারতো। তবে সুইজারল্যান্ডের অন্য সব রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী নেতা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সুইজারল্যান্ডকে হাজার হাজার চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হতো। এমনকী মানবাধিকার, শিশু অধিকারের অনেক সনদও পুনরায় বিবেচনা করতে হতো।
গরু-ছাগলের শিং থাকবে কি-না এবং যে কৃষকরা শিং রাখবে, তাদের ভর্তুকি দেওয়া হবে— এরকম একটি প্রস্তাবও বাতিল করে দিয়েছেন সুইস ভোটাররা। সুইজারল্যান্ডের আইন অনুযায়ী, কোনো প্রস্তাবের পক্ষে এক লাখ স্বাক্ষর থাকলে সেটি নিয়ে গণভোট আয়োজন করতে হয়।