হাজারো সুন্দরীদের টপকে

অলিভিয়া কালপো

প্রতিবছরই নানা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সুন্দরীদের মেলা বসে। এসব সুন্দরী প্রতিযোগিতার অন্যতম হলো মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতাটি। নানা দেশ থেকে সুন্দরীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেন। তাদেরই একজন ছিনিয়ে নিয়ে যান বিজয়ীর মুকুটটি। ২০১২ সালের খেতাবটি অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অলিভিয়া কালপো। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম গত বছর হয়ে যাওয়া মিস ইউনিভার্সের মুকুট মাথায় তুললেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের মেয়ে অলিভিয়া কালপো। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বুধবার লাস ভেগাসের প্ল্যানেট হলিউড ক্যাসিনোতে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠান থেকে তার মাথায় মুকুটটি পরিয়ে দিয়েছেন ২০১১ সালের মিস ইউনিভার্স খেতাব জয়ী অ্যাঙ্গোলার লাইলা লোপেজ। উল্লেখ্য, গত জুনে মিস ইউএসএ নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী অলিভিয়া। মিস ইউনিভার্স ২০১২ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮৯ জন সুন্দরী। আর এতে সবাইকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুটটি মাথায় তুলেছেন অলিভিয়া। প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন যথাক্রমে ফিলিপাইনের জেনিন টাগনন এবং ভেনেজুয়েলার ইরিন সোফিয়া এসার কুইন্টারো। দীর্ঘ ১৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও মিস ইউনিভার্স খেতাব এনে দিলেন অলিভিয়া কালপো। এর আগে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুক লি এই খেতাব পেয়েছিলেন। অলিভিয়া কালপো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় হাজারো সুন্দরীদের মধ্য থেকে বিজয়ীর মুকুটটি ছিনিয়ে নিয়েছেন আমেরিকার অলিভিয়া কালপো। এর আগে তিনি মিস ইউএসএ ২০১২ টাইটেলটি জিতেছিলেন। শুরুটা হয়েছিল রোহদ আইল্যান্ডের সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম পুরস্কারটি জয়ের মধ্যে দিয়ে। খুব ছোটবেলা থেকেই অলিভিয়া বুঝতেন তিনি দেখতে সুন্দর। কিন্তু তার আত্মবিশ্বাসের মূলে ছিল বুদ্ধিমত্তা। বুদ্ধি ও সৌন্দর্যের বিচারে সব সময় অন্যদের থেকে একটু এগিয়েই থাকতেন তিনি। সেই ভাবনা থেকেই সব সময় চাইতেন মডেলিং পেশাটি বেছে নেবেন। পরিবার থেকেও খুব বেশি বাধা পাননি তিনি, বরং অনেকক্ষেত্রে সহযোগিতা পেয়েছেন। একসময় পূরণ হলো তার স্বপ্ন। ছিপছিপে গড়নের এই তন্বী মডেলিংয়ের মধ্য দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু করলেন। তবে আলোর এই জগতটির বাইরেও তার নিজের একটি জগত্ আছে। তিনি মডেলিংয়ের বাইরে পড়াশোনা করতে ভালোবাসেন। বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন তিনি। কালপোর জন্ম ও বেড়ে ওঠা এডজউড শহরে। রোহদ অ্যাইল্যান্ডের একটি ছোট্ট শহর এটি। তার বাবা সুসান ও মা পিটার কালপোর মোট ৫টি সন্তান। অলিভিয়া তার ৫ ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। অলিভিয়া সান্তা ম্যারি ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল অনার সোসাইটির সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। এই সোসাইটির মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিতেন। একবার তিনি ইটালির একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছিলেন। সেখান থেকেই মূলত আলোর জগতটির প্রতি আকর্ষণ জন্মে। এরপর তিনি, ইন্টার রোহদ আইল্যান্ড বিউটি কন্টেস্ট, মিস ইউএসএ ২০১২ এবং মিস ইউনিভার্স ২০১২ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিবারেই সফলতার সাথে বিজয়ী মুকুট ছিনিয়ে আনেন তিনি। সুন্দরী প্রতিযোগিতা শুরুর গল্প প্রতিবছরই আন্তর্জাতিকভাবে আয়োজিত হয় মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা। এটি মিস ইউনিভার্স সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকে। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিষ্ঠিত পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক মিলসের উদ্যোগে ১৯৫২ সালে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতাটি এখন পর্যন্ত নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রথমে গোল্ডেন লেডির অঙ্গ সংগঠন কেসার-রথ এবং পরবর্তীতে গাল্ফ অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটি পরিচালিত হয়েছিল। উল্লেখ্য ১৯২৬ সালে প্রথমবারের মতো মিস ইউনিভার্স পদবি প্রদান করা হয়। প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে এটি ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত টিকেছিল। অবশ্য ওই প্রতিযোগিতাটির সাথে বর্তমানের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার কোনোরকম সম্পর্ক নেই। ১৯৫২ সালে প্রথম মিস ইউনিভার্স সুন্দরী প্রতিযোগিতায় আরমি কুসেলা নামীয় ফিনল্যান্ডের এক প্রতিযোগী বিজয়ী হন। সুন্দরী প্রতিযোগিতাটি ১৯৫৫ সালে প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। ১৯৬০ সাল থেকে সিবিএস কর্তৃপক্ষ জাতীয় পর্যায়ে মিস ইউএসএ এবং মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা একত্রিত করে প্রচার করত। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সাল থেকে পৃথকভাবে সম্প্রচারিত হয়। ২০০৩ সালে এনবিসি টেলিভিশন স্বত্ব লাভ করে। ২০১২ সালের প্রতিযোগিতাটি আন্তর্জাতিকভাবে অনলাইনের মাধ্যমে সম্প্রচারের জন্য এক্সবক্স লাইভ দায়িত্ব পায়।