বসতবসতি
শীত ঠেকাতে ঘরের আর্কিটেকচার
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৮
দিন শেষে ঘরই আমাদের একমাত্র আশ্রয়, আর তাই আমাদের প্রথম চিন্তা হওয়া উচিত এই ঘরটিকে ঘিরে। শীতের প্রকোপ ঠেকাতে ঘরের কথা না ভাবলে পড়তে হয় নানা সমস্যায়। সাধারণত ঘর বলতে আমরা বুঝি যেখানে একদিকে জমকালো আসবাব, আরেকদিকে স্বচ্ছ ক্রিস্টালের শোপিস, টেবিলের ওপর রাখা টেবিল ক্লথটির নজরকাড়া কারুকাজ, পরিপূর্ণ আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। কেউ হয়তো ভাবি, জানালার গ্রিল ঘেঁষে পেঁচানো সবুজ লতাপাতা, কোথাও লাল গোলাপ, আবার কোথাও বেগুনি বা সাদা ফুল। স্বপ্নের ঘরটি আমরা নজরকাড়া রঙেঢঙে রাঙিয়ে নিতে চাই ইন্টেরিয়র আর্কিটেকচার দিয়ে।
আমাদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা মেটাতে ঘরের এই সৌন্দর্য অবশ্যই প্রয়োজন কিন্তু সেই সাথে প্রয়োজন ঘরের তাপমাত্রার বিষয়টি মাথায় রাখা। তবে গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়ায় আমাদের ঘরগুলোর আর্কিটেকচারের ব্যাপারটি চিন্তা করা হয় গ্রীষ্মকালকে ঘিরেই। এ ব্যাপারে আর্কিটেক্ট ফিরোজ মাহমুদ অর্ঘ্য বলেন, ‘আমাদের দেশে যখন একটি ঘরের আর্কিটেকচারাল প্ল্যানিং করা হয়, তখন মাথায় রাখা হয় খোলামেলা পরিবেশ এবং গ্রীষ্মকালের ব্যাপারটা। যেমন, ঘরের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই চিন্তা করি যে কীভাবে তা আরও আরামদায়ক করা যায়। গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে একটু আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যবহার করা হয় জল ছাদের। এ ছাড়াও বড় জানালা-দরজার ব্যবহারও উঠে আসে আর্কিটেকচারাল আলোচনায়। কিন্তু শীতকালের ব্যাপারটি মাথায় না রাখার কারণটি বলা যেতে পারে এর ব্যাপ্তির জন্য। শীতকালের স্থায়িত্ব আমাদের দেশে কম। আর সেজন্যই বাহ্যিক তেমন একটা পরিবর্তনের কথা মাথায় রাখা হয় না বললেই চলে।’ তবে আর্কিটেক্ট ফিরোজ মাহমুদ অর্ঘ্য বিষয়টির একটি সমাধানের কথা বলেন। তিনি শীতের প্রকোপ ঠেকাতে ঘরের অর্কিটেকচারের কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই আনলেন ক্ল্যাভিংয়ের প্রসঙ্গ।
অর্থাত্, দেয়ালে প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে। এই কোটিং কাজে লাগে শীত ও তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য। এরপর আসে ঘরের কার্পেটিংয়ের ব্যাপারটা। কার্পেটিংয়ের উপর যদি একটু নজর দেওয়া যায় তবে শীতের প্রকোপ থেকে অনেকটাই বাঁচা যেতে পারে। কারণ দেখা যায়, মার্বেল কিংবা টাইলসের মেঝে গরমে আরামদায়ক কিন্তু শীতে হয় ঠিক উল্টো।
সেই সাথে ঘরের পর্দার ব্যাপারটি চলে আসে। মোটা পর্দার ব্যবহারও অনেকাংশে শীতের প্রকোপ ঠেকাতে সহায়তা করে।