ডায়েট
শীতের সবজিতে ডায়েট
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪০
একটু একটু করে শীতের প্রকোপ বর্তমানে সর্বোচ্চ অবস্থানে। প্রকৃতি যখন শীতে জড়োসড়ো তখন আপনার অবস্থাও ঠাণ্ডায় নাজেহাল। প্রকৃতির রুক্ষতা ও শুষ্কতা ছাপ ফেলে শরীরেও। তাই এ সময়ে নিজের ডায়েট পদ্ধতিতে খানিকটা গোলমাল লাগতেই পারে। শীতের শুরুতেই এ নিয়ে সতর্ক থাকাটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা অ্যাপোলো হসপিটালের প্রিন্সিপ্যাল ডায়েটেশিয়ান তামান্না চৌধুরীর কাছে সহজে শীতের ডায়েট রুটিন বজায় রাখার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে আমাদের শরীর শুষ্ক হয়ে যায়। তাই ত্বকে রুক্ষতা চলে আসে। এ ক্ষেত্রে সবজির বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। আর শীতকালে আমাদের দেশে প্রচুর সবজি উত্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে সবাই খাবারের তালিকাটি সাজাতে পারেন রকমফের সবজির দিয়ে। আর একটি ব্যাপার হচ্ছে শীত এলেই পানি কম খাওয়া হয়, গরমে আমাদের যে পরিমাণ তৃষ্ণা পায় শীত এলে ঠাণ্ডার কারণে সেই তৃষ্ণা কমে যায়, তাই শরীরে পানির ঘাটতি কমাতে তরল জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত, দৈনিক অন্তত দুই লিটার পানি খাওয়া উচিত, সাথে নানা ধরনের ফল বা ফলের জুস খাওয়া উচিত। এতে শরীরে কাঠিন্য জাতীয় সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার যেমন লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, মালটা প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।’
এ ছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো—
ঠাণ্ডা পানি খেতে যাদের সমস্যা, তারা একটু উষ্ণ পানি খেতে পারেন। সকালের খাবার, দুপুরের খাবারের মাঝে স্যুপ, গরম দুধ, ফলের রস, মাঝেমধ্যে ডাবের পানি খেতে পারেন। এতে পানিশূন্যতা থাকবে না।
টাটকা ফল ও সবজিতে আছে বায়োটিন, যা ত্বক ও চুল ভালো রাখে। মৌসুমি শাকসবজি যেমন—ফুলকপি, আপেল, মটরশুঁটি, শিম, গাজর বেশি পরিমাণে খান।
দুধ ছাড়া তিন-চার ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে চা খেতে পারেন। এটি আপনার শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করবে।
শীতে ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ। বাদাম, মাছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড আছে। তাই এগুলো খান বেশি করে।
শীতের সময় দাওয়াত খাবার ধুম লেগেই থাকে। ফলে ক্যালোরিও বেশি যায় শরীরে। হট চকোলেট, ক্রিম দেওয়া কফি এ সময় লোভনীয় হলেও তা অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম খান। ফল, শাক ও ডাল বেশি খান।
যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তারা চিনি, ময়দা, গম জাতীয় খাবার কম খান। গোটাদানা শস্য, সয়াবিন, মুলা, রাঙা আলু, ডায়েটে তালিকায় রাখতে পারেন।
অতিরিক্ত ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। এতে হার্ট ভালো থাকবে।