প্র জ ন্ম মু খ
ক্যামেরার চোখে প্রকৃতি দেখেন যিনি
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৩২
পাখি দেখাকে কেন্দ্র করেই সায়েম ইউ চৌধুরীর আলোকচিত্র চর্চার শুরুটা হয়। বহু বছর শুধুমাত্র একজোড়া দুরবিন নিয়ে পাখি দেখা, তারপর কিছু পাখির প্রজাতি শনাক্ত করার সুবিধার্থে একটি সস্তা ক্যামেরা দিয়ে পাখির ছবি তোলা শুরু করেন। এর পর তার আলোকচিত্রের প্রতি ঝোঁকটা আরও বেড়ে যায়। তখন ভালো ক্যামেরা ও টেলি লেন্স সংগ্রহ করেন এবং পাখিসহ প্রকৃতির অন্যান্য বিষয়গুলোও ক্যামেরাবন্দি করা শুরু করেন। সায়েম ইউ চৌধুরীর প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার শুরুর গল্পটা এমনই।
সায়েম ইউ চৌধুরীর শৈশবের অনেকটা সময়ই কেটেছে গ্রামীণ ঝোপজঙ্গলের আশপাশে, সে থেকেই তার বন্য জীবজন্তু এবং গাছপালার প্রতি ভালোবাসা জন্মে। কৈশোরের পড়াশোনার মাঝে শহুরে জীবনযাত্রা থেকে খানিকটা বিরতির জন্য প্রায়ই ছুটে যেতেন ঢাকার আশপাশে বনবাদাড়ে, শৈশবকে খুঁজে বেড়াতেন। সায়েম ইউ চৌধুরীর পরিবারের সকলেই তার এই ভিন্ন পেশায় (বন্য প্রাণী নিয়ে গবেষণা এবং ছবি তোলা) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রেরণা দিয়েছেন এবং নানাভাবে সাহায্য করেছেন এবং এখনও করে চলছেন। তার এই বিষয়গুলো অনেক উত্সাহের সাথেই তারা সমর্থন করতেন। পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যাচার ফটোগ্রাফির সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় কোনটি, এমন প্রশ্নের উত্তরে সায়েম ইউ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশে ন্যাচার ফটোগ্রাফারদের একটি বড় বাধা হচ্ছে আমাদের দেশের বিপন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ দেশের বন, তৃণভূমি এবং জলাভূমির অনেকটাই ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। অনেক জঙ্গল এখন বৃক্ষহীন, অনেক জলাভূমি, নদী এখন পাখিশূন্য। এসব কারণে বন্যপ্রাণী এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য খুঁজে বের করে ছবি তোলাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া, এসবের একটি নির্দিষ্ট বাজার না থাকার কারণে এসব ছবি তুলে টিকে থাকাটা সহজ নয়।’
একজন ন্যাচার ফটোগ্রাফার হিসেবে তিনি বরাবরই অত্যন্ত স্বাছন্দ্য বোধ করেন। কেননা বারবার প্রকৃতির কাছে যেতে পারেন, মূলত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার জন্যই এই পেশা বেছে নেওয়া তার। ফটোগ্রাফি শিক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্ব কতটুকু? উত্তরে সায়েম ইউ চৌধুরী বলেন, ‘আমি কখনও কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিইনি ফটোগ্রাফি বিষয়ে, যা দুচোখে ভালো লেগেছে তাই ক্যামেরাবন্দি করেছি, এজন্যই হয়তো এখনও অনেক জিনিসই জানা নেই। তবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেলে একজন ফটোগ্রাফার হয়তো আরও ভালো কাজ করতে পারবে এবং নিজের হাতে শিখতে গিয়ে সময় নষ্ট হবে না।’
প্রকৃতি, পাখি এবং বন্যপ্রাণীর ছবি তুলে এদের অনন্য রূপ মানুষের সামনে তুলে ধরা, যারা হয়তো কখনও এদের নিজের চোখে দেখার সুযোগ পাবেন না অথবা বাংলাদেশে ওই প্রাণীটি বা জায়গাটি আছে তা জানেনই না, তাদের জানানোর মাধ্যমে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে পারাটাই সায়েম ইউ চৌধুরীর অর্জন এবং একমাত্র উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান। এই প্রজন্ম সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে সায়েম ইউ চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রজন্ম সম্পর্কে আমি অত্যন্ত ইতিবাচক। আমি মনে করি তারা প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ বা জলবায়ু পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তিসহ নানাবিধ বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান রাখে এবং ভিন্ন কিছু করার স্বপ্ন দেখে। এ রকম অনেক উত্সাহী ন্যাচার ফটোগ্রাফারদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। এই প্রজন্মকে আমি অনুরোধ করব অন্তত একবার হলেও আমাদের অবশিষ্ট প্রাকৃতিক বনবাদাড়, নদী বা জলাভূমির কাছে যেতে। বিশেষ করে যারা শহরে বড় হচ্ছেন।’
সবশেষে আলোকচিত্র নিয়ে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যত্ নিয়ে তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা স্বপ্ন নেই, তবে আলোকচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিপন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গুরুত্বকে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়াই হবে আমার ভবিষ্যত্ প্রচেষ্টা।’
সায়েম ইউ চৌধুরী
ডাক নাম :সায়েম
জন্ম তারিখ ও স্থান :১০ জানুয়ারি, বরিশাল, বাংলাদেশ
মায়ের নাম :দেলওয়ারা বেগম
বাবার নাম :সালাউদ্দিন চৌধুরী খোকন
প্রথম স্কুল :বরিশাল জিলা স্কুল
প্রিয় পোশাক :সবুজ শার্ট
অবসর কাটে যেভাবে :ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ফেসবুক, বণ্যপ্রাণীবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র, বই বা গবেষণাপত্র পড়ে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :সাফল্য তখনই পাওয়া যায়, যখন নিজের সম্পর্কে পুরোপুরি জানা যায়।