প্রজন্মের উদ্যোগ

রুবাইয়াত্ জামিল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিম অ্যান্ড ফাজ ছেলেবেলায় খুব ক্রিকেট খেলতেন, ওপেনার ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৬ জাতীয় দলের হয়ে দেশের বাইরে গিয়েও খেলেছেন। সেই ছেলেটা যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন, চাইলেন নিজেই কিছু করতে। অথচ পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বাঁধ সেধেছে বারবার। চাইলেই সেই বাধাবন্ধকতাগুলো তিনি পার পেতে পারতেন যেন তেন উপায়ে। সেই দিনের সেই তরুণ উদ্যোক্তা তা করেননি। সময় নিয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তায় তা মোকাবেলা করেছেন, পার হয়েছেন বহু বন্ধুর পথ। বলছিলাম ঢাকা শহরের লাখো মানুষের প্রিয় আইসক্রিম পার্লার ‘ক্রিম অ্যান্ড ফাজ’-এর উদ্যোক্তার গল্প। তিনি রুবাইয়াত্ জামিল, তিনি এই প্রজন্মের একজন সফল উদ্যোক্তা। প্রিয় মানুষদের কাছে তিনি আদিত্য নামেই পরিচিত। আদিত্যর ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকা শহরেই। এখানেই দিনমান ক্রিকেট খেলে কাটত তার সময়। বাবা-মা দুজনেই ছিলেন কর্পোরেট দুনিয়ার মানুষ। তারাও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে ছিলেন অনবদ্য। বাবা দেশের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান সিঙ্গারের চেয়ারম্যান, মা ব্যান্ডবক্সের মত ব্যতিক্রমী এক সেবাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক। পরিবার থেকে তাই সব সময়ই স্বাধীন কাজের ব্যাপারে পেয়েছেন উত্সাহ। আদিত্য যখন ২৩ বছর বয়সেই কাজ শুরু করেন, তখনই তাকে ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অনেকবার আলোচনায় বসতে হয়েছে। শুরু করেছিলেন তিনি সফটওয়্যার কোম্পানি দিয়ে। পরবর্তীতে ব্যতিক্রম কিছু আর চাহিদার কথা মাথায় রেখে শুরু করেন ক্রিম অ্যান্ড ফাজ। যা মান আর উপস্থাপনায় ভিন্নতা দিয়ে শুরুতেই পেয়ে যায় জনপ্রিয়তা। এরপর আদিত্য ধীরে ধীরে বনানী, বেইলী রোড এবং তারপর ধানমন্ডিতে শাখা দিয়ে দেন ক্রিম অ্যান্ড ফাজের। এখন তিনি পরিকল্পনা করছেন এই পরিসেবা ঢাকার বাইরের বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে দেবেন। প্রজন্মের মেধাবী এই উদ্যোক্তা ‘ঢাকা রোল’ নামে আরও একটি খাবারের আউটলেট দিতে চাচ্ছেন, এর মাধ্যমে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো তুলে ধরার প্রয়াস থাকবে। আদিত্য মনে করেন, নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার শুরুতে অনেক বাধা-বিপত্তি আসতেই পারে। সেগুলোতে হার মানলে চলবে না। আমাদের দেশে এখন নতুন করে অনেকেই এগিয়ে আসছে ব্যবসায় খাতে। এর মাধ্যমে দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। আদিত্য মনে করেন, কোন উদ্যোগ কতটা বড় পরিসরে শুরু করা হলো তারচেয়ে কতটা আন্তরিকতার সাথে যাত্রা শুরু করল সেটাই মূল বিষয়। এই দিক দিয়ে আদিত্য বেশ সৌভাগ্যবান। তিনি নতুন উদ্যোগে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের সাড়া পেয়েছিলেন। বনানীতে যখন ক্রিম অ্যান্ড ফাজ শুরু করেন, তখন অনেকে মিডিয়াব্যক্তিত্ব এসেছেন তার আউটলেটে। তাদের উপস্থিতি তাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। নতুন যারা যাত্রা শুরু করছেন তার উদ্দ্যেশে আদিত্যর বক্তব্য একটাই, জাঁকজমকের সাথে যদি সেরামানের পণ্য বা সেবাটা মানুষের কাছে পৌঁছে না দেওয়া যায়, তাহলে আস্থা হারাবে সবাই। আদিত্যর শৈশব-কৈশোর ঢাকাতেই। অসম্ভব স্বাপ্নিক এই মানুষটা নিজের স্বপ্ন পূরনের পথে এগিয়ে চলছেন প্রতিদিন। সেই স্বপ্নের পথে ধরে তার সাথে রয়েছেন স্ত্রী ফিওনা সালাউদ্দিন, যিনি একই সাথে ক্রিম এন্ড ফাজের মাননিয়ন্ত্রনের বিষয়টিও দেখছেন। একমাত্র কন্যা আনঝারা জামিল যেন ছোট্ট এক কথা বলা পুতুল এই দম্পতির কাছে! তাকে নিয়ে কেটে যায় তাদের অবসরের সময়টা। আদিত্যর ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দুয়ার অবারিত হোক, এমনটাই প্রত্যাশা। রুবাইয়াত্ জামিল ডাক নাম :আদিত্য জন্ম তারিখ ও স্থান :সেপ্টেম্বর ১১, ঢাকা মায়ের নাম :নাহার জামিল বাবার নাম :মাহবুব জামিল প্রথম স্কুল :নাহার’স টিউটোরিয়াল প্রিয় মানুষ :ফিওনা সালাউদ্দিন প্রিয় উক্তি :হোয়াট গুড আর ইউর মোরালস, ইফ ইউ ডোন্ট স্ট্যান্ড বাই দেম, হোয়েন টেস্টেড। প্রিয় পোশাক :জিন্স, জ্যাকেট অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে, বই পড়ে, ক্রিকেট খেলে সাফল্যের সংজ্ঞা :গ্রাহক সন্তুষ্ট হলে সেটাই আমার সফলতা। তানজিমা শারমিন মিউনী প্রোপাইটর হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার শুরুতে অনেক বাধাবন্ধকতার মোকাবেলা করতে হয়, পড়তে হয় অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। তবুও এমন পরিস্থিতিতে যারা হাল ধরে থাকেন, লক্ষ্যে অটুট থাকেন, শুধু তাদের নৌকাই ভিড়ে বিজয় বন্দরে। তেমনি একজন তানজিমা শারমিন মিউনী। তার প্রতিষ্ঠান হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের পরিচয়েই পরিচিত এখন তিনি নগরবাসীর কাছে। বছর কয়েক আগে যাত্রা শুরুর সময়ে কেউ বাঁধ না সাধলেও খুব বেশি ইতিবাচক সহযোগিতাও করেননি। তারপরেও মিউনী চ্যালেঞ্জটি নিয়েছিলেন। সেরা সেবাটা সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশাল পরিসরে শুরু করেছিলেন হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের কার্যক্রম। সেই যাত্রাটা ছিল স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কাটার মতোই দুর্গম। এতটা পথ হেঁটে এসেও নিজকে সফল উদ্যোক্তা মানতে নারাজ বিনয়ী এই মানুষটা। তার মতে এ কেবল শুরু। শুরুর সময় থেকেই তার সাথে কাজ করছেন প্রায় ত্রিশজন কর্মী। তারা প্রত্যেকেই এই কাজ করে স্বাবলম্বী, এর মাধ্যমেই চলছে তাদের সংসার। তানজিমা শারমিন মিউনীর আমেরিকাতে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল সেলুন নির্ভর বিষয়গুলোতে। সেই ভাবনা থেকেই চাইছিলেন পার্লার করবেন। ততদিনে তার স্বামীর প্রতিষ্ঠান হেয়ারোবিক্স ঢাকা শহরের প্রথম কাতারের মেনজ পার্লার হিসেবে সমাদৃত। তখনি তিনি হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল নামে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান দেন। তার কাছে জনতে চেয়েছিলাম, শুরু করার সময় কোন বিষয়গুলোতে তিনি বেশি নজর দিয়েছিলেন? জানালেন, তিনি চেয়েছিলেন তার প্রতিষ্ঠানের সেবার মানটা যেন সব সময়ই আন্তর্জাতিক মানের হয়। আর সেরা কাজ দিয়েই তিনি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছেন। একজন গ্রাহকের সন্তুষ্টিই তার কাছে সবচেয়ে বড়। তিনি নিজ হাতেই সব সময় মানের বিষয়টা নিশ্চিত করেন। পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারেও দেশ এবং দেশের বাইরে তিনিই খবরাখবর রাখেন। নিজের নিবিড় তত্ত্বাবধান আর একনিষ্ঠ পরিশ্রম দিয়েই তিনি আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন দেশের প্রথম সারির এই বিউটি কেয়ার সেলুনটিকে। মিউনীর কাছে প্রশ্ন ছিল, নতুনরা কোনো উদ্যোগের শুরুতে কেমন করে এগোবে? তিনি বললেন, ‘খুব দরকার নিজের উপর আস্থা রাখাটা। তা না হলে কোনো কাজেই ভালো করা যাবে না। ভালো না করতে পারা মানেই এ প্রতিযোগিতার মার্কেট থেকে ঝরে পড়া। আর তাই কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাইলে সেই বিষয়ে অনেক বেশি জেনে আসতে হবে। তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতেও জ্ঞান থাকতে হবে। মনে রাখা দরকার, মানুষ তার ইচ্ছের সমান বড়। সুতরাং কেউ যদি তার লক্ষ্যের পথ ধরে অটুট থাকে, কেউ তাকে আটকে রাখতে পারবে না।’ প্রজন্মের সাহসী এই উদ্যোক্তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে পদ্মাপাড় রাজশাহীতে। তারপর থেকে ঢাকায় তার জীবন। কিছুদিন দেশের বাইরেও থাকা হয়েছে। মিউনীর বাবা তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক রাজশাহী থেকে একাধিকবার বিজয়ী সংসদ সদস্য। মা একজন গৃহিণী। দুই ভাই বোন আর বাবা-মায়ের সংসারে খুব আদরের ছিলেন তিনি। সবার ভালোবাসা পেয়ে পেয়েই কেটেছে তার শৈশবের দিনগুলো। স্বামী শাদিন মোহাম্মদ মাহবুব তার পথ চলায় সঙ্গী। একমাত্র কন্যা নাফিয়া নাজরীনকে নিয়ে কেটে যায় তাদের সুখের দিন। ভবিষ্যতের ভাবনার চেয়ে বর্তমানকেই বেশি জোর দেন তিনি—বর্তমানের এই কর্মযজ্ঞই তাকে এনে দেবে হয়তো সুখের ভবিষ্যত! তানজিমা শারমিন ডাক নাম :মিউনী জন্মতারিখ ও স্থান :৩০ অক্টোবর, রাজশাহী মায়ের নাম :নাসিমা ফারুক বাবার নাম :তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক প্রথম স্কুল :দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :মা, বাবা আর স্বামী প্রিয় উক্তি :নিজেকে জানো প্রিয় পোশাক :ওয়েস্টার্ন অবসর কাটে যেভাবে :মেয়ের সাথে খুনসুটি করে সাফল্যের সংজ্ঞা :মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো। মণিদীপা দাশ গুপ্তা স্বত্বাধিকারী, আন-স্টিচড পড়াশোনাটা চারুকলায়, তারপর কিছুদিন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন বেক্সিমকোতে। সেখানের গ্রাফিক্সের কাজ খুব বেশি মনে ধরেনি তার। মূলত ওয়েব ডিজাইনের গ্রাফিক্সই করতেন তিনি। তারপর ড্রেসিডেলে চলে আসেন ডিজাইনার হিসেবে। সেখানেই মূলত ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তারপর নিজেই কিছু শুরু করতে চাইলেন। কিন্তু বাইরে গিয়ে আউটলেটের চেয়ে শুরুতেই তিনি চেয়েছেন অনলাইনে মার্কেটিং করতে। শুরু হলো অনলাইনে ফ্যাশন সামগ্রী বিপণন কার্যক্রম ‘আন-স্টিচড’। বলছিলাম মণিদীপা দাশ গুপ্তার শুরুর গল্প, তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা এবং ডিজাইনার। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন নিজ থেকেই কিছু করার চিন্তা মাথায় এল? উত্তরে তিনি জানালেন, শুরুতে তিনি কিছুদিন বাইরে কাজ করেছিলেন। তখন তার মনে হলো, এটা যেহেতু একটা সৃজনশীল মাধ্যম, তাই এখানে অনেক বেশি নিজের ভাবনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাই তিনি তখন অনলাইনে ফ্যাশন নিয়ে কাজ শুরু করেন। এখন তার ফ্যাক্টরিতে কাজ করছেন চার-পাঁচজন। তারা প্রত্যেকেই এ কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। নিজের পাশাপাশি অন্যের জন্য কিছু করার একটা বাড়তি আনন্দ আছে। এই বিষয়টা উপভোগ করেন তিনি। প্রজন্মের মেধাবী এই ডিজাইনার মনে করেন, আমাদের দেশে এখন কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে, আমরা চাইলেই এখন নিজ থেকে কিছু করতে পারছি। আর অনলাইনে কেনাকাটার সুবিধা হওয়াতে মানুষের পরিচিতিটাও দ্রুত ছড়াচ্ছে। মণিদীপা নিজেও অনেক মেলাতে তার পোশাক নিয়ে অংশ নিয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয় বলে জানান তিনি। আর সত্যি মানুষ তার পণ্য সম্পর্কে খুব সহজে জানতেও পারছে। মণিদীপা দাশ গুপ্তা মনে করেন, আমাদের ফ্যাশন উদ্যোগ অনেক বেশি এগিয়ে যাবে যদি না বাইরের সস্তাধারার পোশাকগুলো বাজারে আধিপত্য বিস্তার না করে। তার মতে কয়েক বছরের তুলনায় আমরা এখন ভালো অবস্থানে, শুধু পণ্যের মানটা ঠিক রাখতে পারলেই বাইরের দেশগুলোতে আমাদের একটা চাহিদা তৈরি হবে, সেটা কাজে লাগাতে পারলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আমাদের ইমেজটাও বাড়বে সবার কাছে। তবে দেশীয় পোশাকের যে স্বকীয়তা এই জিনিসটা কাজে লাগালেই ফ্যাশনে অনেক বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। আর নতুন যখন কেউ শুরু করবে, তাদেরকে অনেক বেশি মাত্রায় চারপাশ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। যারা সময়ের সাথে নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারে তারাই কিন্তু সফল হয়। মণিদীপা দাশ গুপ্তার ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকা শহরেই। খ্যাতনামা ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি দেওয়ার পর শিল্পমনা হওয়ার কারণেই ভর্তি হলেন চারুকলায়। সেখান থেকে প্রাথমিক পড়াশোনাটা শেষে চারুকলা থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। তার বাবাকে হারিয়েছেন তিনি ছোটবেলাতেই। তার এই পথপরিক্রমা তিনি দেখে যেতে পারেননি। মণিদীপার মা গৃহিণী। ঢাকার পান্থপথে নাট্যপরিচালক কৌশিক শংকর দাসের সাথে এখন তাদের ছোট্ট সংসার। একমাত্র কন্যা রায়ার বয়স ৫ বছর। তার সাথে খুনসুটিতেই কেটে যায় তার সারাবেলা। অবসরে খুব ফেসবুকে বসা হয়, সেই সাথে ফ্যাশন ম্যাগাজিনে চোখ রাখেন নিয়মিত নিজেকে আপডেট রাখার জন্য। স্বামীর সহযোগিতা তাকে এই পর্যায়ে আসতে অনেক বেশি সাহায্য করেছে বলে জানান। এই প্রজন্মের এই উদ্যোক্তা স্বপ্ন দেখেন তার এই প্রয়াসটা ছড়িয়ে যাবে সবার মাঝে। সুযোগ-সুবিধা মতো তিনি একটা আউটলেটেও যেতে চান। তখন হয়তো আরও বেশি মানুষ তার থেকে উপকৃত হবে। মণিদীপা দাশ গুপ্তা ডাক নাম :চুমকি জন্মতারিখ ও স্থান :১৩ অক্টোবর, ঢাকা মায়ের নাম :বিজয়া দাশ গুপ্তা বাবার নাম :সুশীল দাশ গুপ্ত প্রথম স্কুল :ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রিয় মানুষ :আমার বাবা প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :ডিজাইনের ভাবনায় সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম। মো. কামরুজ্জামান পিপুল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়েল এসইও কোম্পানি লিমিটেড ছয় বছর আগের কথা, কলেজের ছাত্র তখন তিনি। বন্ধুদের কাছে শুনলেন অনলাইনে আয় করা যায়। পরিবার থেকে এসব বিষয়ে সেই সময় উত্সাহ দেওয়ার কথা নয়। স্বাভাবিকভাবেই তখন নিজেই খোঁজখবর নিয়ে যোগ দিলেন কিছু সেমিনারে। তারপর বাসায় এসে নিজেই সীমিত জ্ঞানে শুরু করলেন কাজ। তার ইচ্ছের সাথে সেদিন যোগ হয়েছিল সৌভাগ্য। পেয়েছিলেন সুদূর ইউরোপ ও পশ্চিমা কিছু দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার সুযোগ। এখন তার সাথে কাজ করছেন প্রায় চল্লিশজন। তিনি ই-কমার্সের একজন উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান পিপুল। কাজ করছেন নিজের প্রতিষ্ঠান রিয়েল এসইও’র সাথে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি এখানকার সিইও। মজার বিষয়, পিপুলের যাত্রা শুরুর সময় সেদিন যারা নিরাশার কথা শুনিয়েছিল, তারা অনেকেই এখন স্বাবলম্বী হয়েছে এই ব্যবসায়ে। তারাও কাজ করছেন পিপুলের সাথে। পিপুল মনে করেন, এই পেশাটা যথেষ্টই চ্যালেঞ্জিং আমাদের দেশে। অনেকেই শুরু করছেন কিন্তু মান বা সন্তুষ্টি অর্জন করতে না পারায় থেমে যেতে হচ্ছে তাদের। আরও একটু বেশি সচেতন হলে কাজ করা সুবিধাজনক হবে সবার জন্য। আর নতুন কোনো উদ্যোগের শুরুতে বাধা আসবেই। ব্যক্তি উদ্যোগে যারা কিছুদিন ঠেকে কাজ শেখে, শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হয়। ই-কমার্স সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে। আর কিছুদিন অভিজ্ঞতা অর্জনের পর কেউ চাইলেই কাজ শুরু করতে পারেন, সে দিক দিয়ে বিবেচনা করলে আমাদের দেশে এই পেশা অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে যারা নিজেই দ্রুত স্বাবলম্বী হতে চান, তাদের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। পিপুল যখন শুরু করেন তখন বলা যায় এই ধরনের কাজ আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে, তাই তাদেরকে প্রতিষ্ঠা পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পিপুলের বর্তমান প্রতিষ্ঠানটার যাত্রা শুরু করে ২০০৯ সালে। তারও আগে থেকে তিনি ঘরে বসেই কাজ করেছেন, চেয়েছেন এই দুনিয়াটা ভালোভাবে বুঝতে। এর পরপরই নিজেই উদ্যোগ নিয়ে আরও কিছু মানুষকে কাজ করার সুযোগ করে দেন। পরিবার থেকে কখনোই বাধা তেমন না এলেও ছিল না তেমন সহযোগিতাও। তবে এখন তার উপর অনেকেই আস্থা রেখেছে, ঠিক যেমন দেশ-বিদেশের অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো তার উপর আস্থা রেখে সেদিন সঠিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল। অনলাইনে মার্কেটিং বা ব্যক্তি উদ্যোগে এ ধরনের বিঘ্ন পাশ কাটিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন এই প্রজন্মের মেধাবী এই ব্যবয়ায়ী। কামরুজ্জামান পিপুলের ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকা শহরে, যদিও তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, এখন সমাজসেবায় নিয়োজিত। মা পরিবার পরিকল্পনায় কাজ করতেন। এখন অবসরে। বড় ভাই মুকুল যোগ দিয়েছেন পিপুলের ব্যবসাতে। দুই ভাই মিলেই চাইছেন এগিয়ে যাক আস্তে আস্তে এই প্রতিষ্ঠান। স্ত্রী সাঈদা ইসলামের অনুপ্রেরণা পিপুলের পথ চলার পাথেয়। তাকে নিয়েই এখন রচিত হয় পিপুলের প্রতিদিনের সুখের দিনলিপি। পিপুল স্বপ্ন দেখেন আমাদের দেশে ই-কমার্স আরও বেশি জনপ্রিয় হবে। আর তিনি তার অবস্থান থেকে সাধ্যনুযায়ী কাজ করে যাবেন দেশের উন্নয়নে। মো. কামরুজ্জামান ডাক নাম :পিপুল জন্ম তারিখ ও স্থান :১ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা মায়ের নাম :শাহীন আক্তার বাবার নাম :কামাল উদ্দিন প্রথম স্কুল :দনিয়া একে হাই স্কুল প্রিয় মানুষ :মা-বাবা প্রিয় উক্তি :পরিশ্রমেই সফলতা আসে প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট অবসর কাটে যেভাবে :গেমস খেলে সাফল্যের সংজ্ঞা :আরও বেশি পরিশ্রম।