আয়োজন
আলাভির স্বপ্ন
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪১
সম্প্র্রতি বিবিআনা তাদের ধানমন্ডিস্থ প্রথম আউটলেটে আয়োজন করেছে ‘আলাভির স্বপ্ন ছায়া’। আলাভি বয়স চারের কিছু বেশি। এ শিশুটি আপন মনে নিজস্ব ভঙ্গিতে ছবি এঁকে চলেছে প্রতিদিন—কখনও তার মাকে কখনো বা নিজের প্রিয় গাড়ি, অ্যারোপ্লেন, বিড়াল, মাছ, ভয় ও তার পারিপার্শ্বিকতাকে নিয়ে।
বিবিআনায় ১৮ দিন বয়স থেকে বেড়ে উঠা এই শিশুটির প্রতি বাবা, মা এবং বিবিআনা পরিবারের প্রতিটা মানুষের ভালোবাসা ও জন্মদিনের উপহারস্বরূপ এই প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীতে বিবিআনা আলাভির কল্পনার অংকিত রূপগুলোকে বৈচিত্র্যময় আঙ্গিকে সাজিয়েছে ছোট্টমণিদের পোশাকে, দুধের ও পানির মগে, টি শার্ট এবং গৃহসজ্জার সামগ্রীতে। বয়সসীমা এবারে ২ থেকে ১৫ বছরের শিশুদের জন্য থাকলেও পরবর্তীতে নতুন জন্ম শিশু থেকে বড়দের জন্যও প্রডাক্ট তৈরি হবে।
এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চারুশিল্পী কাশেম খান, প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়কারী সিআরপি ভেলোরী টেলর।
একজন শিশুর আঁকা এসব ছবির অনুপ্রেরণায় এই প্রোডাক্টগুলো বিবিআনা তার সব আউটলেটেই রাখছে। যা সব শিশু ও বাবা-মাকে অনুপ্রাণিত করবে।
এ প্রদর্শনীতে বিবিআনা একজন শিশুর সকল অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ তুলে ধরছে তার সব পণ্যের মধ্যে।
প্রতি বছরই বিবিআনা ছোট্ট শিশু আলাভির আঁকা ছবি নিয়ে এই প্রদর্শনী করবে বলে আশা রাখছে এবং ভবিষ্যতে নতুন ভাবনার সংযোজন হবে। এ প্রসঙ্গে আলাভির মা বলেন, ‘প্রত্যেকটা শিশুই তার ভিতরের ভাবনাটাকে খুব সুন্দর ও সহজভাবে প্রকাশ করতে পারে তার ছবিতে, কারণ সে তখন ভালো-মন্দ, সুন্দর-অসুন্দর বা পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে বিচলিত হয় না। তাই প্রতিটি শিশুর আঁকা ছবি এত সুন্দর হয়। আমি মা বলেই হয়তো আলাভির প্রত্যেকটা ড্রইংয়ের আঁচড় আমাকে এত বেশি আকৃষ্ট করে। এটা হচ্ছে সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা। আলাভীর বয়স যখন ১৮ দিন তখন থেকেই তাকে নিয়ে অফিসে যেতাম এবং আমার ডিজাইন টেবিলের উপরে এক পাশে ছিল তার বিছানা আর এক পাশে আমার আঁকাআঁকি ও ডিজাইন, অন্য রুমে হতো তার বাবার ছবি আঁকা।
এই পরিবেশেই বড় হতে হতে হয়তো বা তার ভিতর জন্ম নিয়েছে একটা সূক্ষ্ম শিল্প প্রতিভা। ধীরে ধীরে এভাবেই আলাভী হয়ে গেছে আমাদের বিবিআনা পরিবারের সদস্য। আজ আমরাও এই ক্ষুদে সদস্যের আঁকা কিছু ছবির অনুপ্রেরণায় কাজ করছি ডিজাইন স্টুডিওতে। ২০১১-এর প্রথম দিকে আমি গিয়েছিলাম দেশের বাইরে। কয়েকদিন পর যখন ফিরলাম দেখি আমার বেড রুমের দেয়ালে কলম দিয়ে আঁকা অনেক কিছু। প্রথমে বিরক্ত হলে পরে যখন জানলাম সত্যিই ও এঁকেছে, বিশ্বাস করতে পারিনি। পরে দেয়ালের ওই অংশটাই হয়ে গেল যুেন একটা ক্যানভাস। আলাভীকে কখনই অনুরেধ করে ছবি আঁকানো যায়নি নিজের ইচ্ছাটাই ওরে কাছে প্রাধান্য পেয়েছে। খেয়াল খুশিমতো সে এঁকে চলে তরি নিজস্ব ভঙ্গিতে কখনও দেয়ালে বা পরে থাকা কাগজে।
আলাভির আঁকা এই ছবিগুলোর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ স্বরূপ, বাবা-মা ও বিবিআনার পক্ষ থেকে আলাভীকে জন্মদিনের উপহার এই প্রদর্শনী ‘আলাভীর স্বপ্ন ছায়া’। প্রদর্শনীর এই প্রচেষ্টা সকল বাবা-মা ও শিশুদেরকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। আলাভির প্রতি শুভ কামনা সবসময়।’